যে কারণে মান্নার কবরে না যাওয়ার অনুরোধ স্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্ট

২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান এক সময়ের ঢালিউড কিং মান্না। এই অভিনেতাকে দাফন করা হয় টাঙ্গাইলে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে। প্রতিবছর মান্না ভক্তরা ছুটে যান তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। কিন্তু এবার তা না করার জন্য ভক্তদের অনুরোধ করেছেন মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না।

মান্নাকে দাফনের পর তার কবরটি বাঁধানো হয়নি। বর্তমানে মান্নার কবর সংস্কারের কাজ চলছে। বিষয়টি উল্লেখ করে শেলী মান্না বলেন—‘মান্নার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মতো অবস্থায় নেই। ভক্তরা এসে কবরটি খুঁজে না পেয়ে হয়তো আরেক জায়গায় ফুল দেবেন। এই মুহূর্তে মান্নার কবরে আলাদা কোনো মার্কিং দেওয়া নেই। আপনারা অনেকেই এসে হতাশ হবেন। আপনাদের অনুরোধ করব, এই বছরটা কবরের পাশে না গিয়ে যার যার অবস্থান থেকে এলাকার কবর জিয়ারত করে মান্নার আত্মার জন্য দোয়া করবেন।’

মান্নার ১৩তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে মান্নার গড়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্রের অফিসে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়াত এই নায়কের সহধর্মিণী শেলী মান্না তার বাসায় মিলাদ মাহফিল ও কোরআন খতমের আয়োজন করেছেন। তাছাড়া মান্না ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকেও কোরআন খতম ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

মান্না নামে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে পরিচিত হলেও তার পুরো নাম এস এম আসলাম তালুকদার। ১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের এ প্রতিবাদী নায়ক। ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’র মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিবেদিত এক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।

নব্বই দশকে অশ্লীল চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হলে যে কজন প্রথমেই প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের মধ্যে নায়ক মান্না ছিলেন অন্যতম। অশ্লীল চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ করে শেষ অবধি জয়ী হয়েছিলেন তারা। তারপর দাঙ্গা, লুটতরাজ, তেজী, আম্মাজান, আব্বাজান প্রভৃতি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তার পেয়ে যান আকাশচুম্বী। তার অভিনীত আম্মাজান চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল সিনেমার অন্যতম।

মান্না তার জীবদ্দশায় দুইশতর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত সিনেমার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- লাল বাদশা, আব্বাজান, স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ, দুই বধু এক স্বামী, মনের সাথে যুদ্ধ, মান্না ভাই, পিতা মাতার আমানত, তওবা, পাগলী, কাসেম মালার প্রেম, চাঁদাবাজ, ত্রাস, তেজী, মিনিস্টার, প্রেম দিওয়ানা, ডিস্কো ড্যান্সার, খল নায়ক, শান্ত কেন মাস্তান, গুণ্ডা নাম্বার ওয়ান, কুখ্যাত খুনী, রংবাজ বাদশা, বসিরা, ঢাকাইয়া মাস্তান, মেজর সাহেব, আরমান, মাস্তানের ওপর মাস্তান, বিগবস, টপ সম্রাট, সুলতান, ভাইয়া, বিদ্রোহী সালাহউদ্দিন, বাবা, কিলার, টপ টেরর, জনতার বাদশা, রাজপথের রাজা, এতিম রাজা, টোকাই রংবাজ প্রভৃতি। ২০০৬ সালে সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান জনপ্রিয় এ অভিনেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *