বিএইচবিএফসি’র প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তীর স্মরণ সভা

স্টাফ রিপোর্ট

প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তীর স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সম্মানিত সিনিয়র সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএইচবিএফসি’র পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ।
বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের এর অকাল প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী স্মরণে (১৮, ২০২১) এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিঃ দায়িত্ব) অরুন কুমার চৌধুরী এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সম্মানিত সিনিয়র সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএইচবিএফসি’র পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ; পরিচালক নীলুফার আহমেদ, প্রফেসর ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর চৌধুরী, তপন কুমার ঘোষ, বিএইচবিএফসি’র প্রাক্তন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালক’র পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীগণ।
প্রধান অতিথি মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন- প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী একজন মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন লোকহিতকর ব্যক্তি ছিলেন। সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় সেবাকে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রযুক্তিকে যথোপযুক্তভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফাইনান্সিয়াল টেকনোলজি বিষয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল যা বর্তমান ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টপ ম্যানেজমেন্ট এর মধ্যে বিরল। প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিএইচবিএফসি’র প্রতি জনগণের ভুল ধ্যান-ধারণা পরিবর্তন করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। জনগণের চাহিদার সাথে মিল রেখে তিনি বিএইচবিএফসি’র ঋণের প্রোডাক্টসমূহকে ডাইভারসিফিকেশন করার ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে কর্পোরেশনের গৃহায়ন সেবা পৌঁছে দেয়া সহজ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে বিশবমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি তার মেধা, মনন, দক্ষতা ও দৃঢ়তাকে কাজে লাগিয়ে বৈশিবক প্রেক্ষিতে প্রকৃত লিডার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর এই অল্প বয়সে চলে যাওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশাল ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। রাষ্ট্র হারিয়েছে সৃজনশীল ও প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে। তিনি তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করার জন্য সহকর্মীদের পরামর্শ প্রদান করেন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের আশবাস প্রদান করেন। তিনি দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী এবং তাঁর ছোট ছেলে নীলাঞ্জন চক্রবর্ত্তী দূর্জয়ের অকাল প্রয়ানে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারে প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. সেলিম উদ্দিন প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তীর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী ছিলেন একজন সফল ব্যবস্থাপক, প্রেরণার উৎস ও কর্মীবান্ধব স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি ছিলেন ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও স্বচ্ছতার ধারক ও বাহক। প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য তাঁর ছিল সৃজনশীল কর্মনিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও গভীর ভালোবাসা। সৃজনশীল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে তিনি বরাবরই পরিচালনা পর্ষদের সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। কর্ম পাগল মহৎ ক্ষণজন্মা এই ব্যক্তি নশবর পৃথিবী থেকে চলে গেলেও তাঁর কৃত্তি তাকে আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে আজীবন। প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাঁর আত্মার শান্তি পাবে মর্মে কর্পোরেশনের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি প্রধান অতিথি মহোদয়কে তাঁর মূল্যবান সময় ব্যয় করে এই স্মরণ সভায় যোগ দেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর চৌধুরী এবং তপন কুমার ঘোষ প্রয়াতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তাঁর অসমাপ্ত কাজ ও স্বপ্নগুলো এগিয়ে নেয়ার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহবান জানান এবং পূর্বের ধারাবাহিকতায় কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মকান্ড অক্ষুন্ন রাখার জন্য সিনিয়র সচিব’র সুদৃষ্টি কামনা করেন।
প্রয়াতের স্মৃতি স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন বিএইচবিএফসি’র মহাব্যবস্থাপক মোঃ আতিকুল ইসলাম, উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ খাইরুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান মোঃ গোলাম মোস্তফা, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোঃ আবু বকর সিদ্দিক ও মোঃ নজরুল ইসলাম, জোনাল ম্যানেজার ইমন ধর এবং রিজিওনাল ম্যানেজার শারমিন আক্তারসহ প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভগ্নিপতি ড. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি ও জ্যেষ্ঠ পুত্র দীপাঞ্জন চক্রবর্ত্তী।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী (অতিঃ দায়িত্ব) প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন কর্পোরেশনকে পরিপূর্ণ ডিজিটাইজেশনে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ই-হোম লোন সিস্টেম সফটওয়্যার তৈরি করেছে যা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে সেবা সহজীকরণসহ সচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। ফলে প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে এবং কর্পোরেশনের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রমে প্রভুত অগ্রগতি সাধিত হবে। তিনি প্রধান অতিথিসহ সবাইকে স্মরণ সভায় যোগ দেয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
সঞ্চালক হিসেবে সভাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মিসেস নিগার সুলতানা মিতু। সভায় বিএইচবিএফসি’র সদর দফতর ও মাঠ পর্যায়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *