নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখবে

স্টাফ রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশনক্রিয়েটিভিটি এন্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশীপ (আইসিই) সেন্টার এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গৃহীত রিভাইভ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে (১৫ জানুয়ারী) রাত ৮টা ৩০ পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল মাধ্যম জুমে বাংলাদেশে সিএমএসএমইসঃ জার্নিচ্যালেঞ্জেস এন্ড ফিউচার ডিরেকশন’ শীর্ষক বরিশাল বিভাগীয় ওয়েবিনার এর আয়োজন করা হয়। আইসিই সেন্টারের ভাইস-চেয়ারম্যান ড খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড মোহাম্মদ শরীয়ত উল্লাহর সঞ্চালনায় এই প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশেদ খান মেনন, এমপি এবং মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড মাসুদুর রহমান।

 রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের যথাযথ সমর্থন দেয়া গেলে দেশের শিল্পখাতে একটা বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষিত হবার পরও মাঝারী উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ না পেয়ে ফিরে আসছে এমন কথা উল্লেখপূর্বক তিনি বলেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মাঝারি ব্যবসায়ীরা নয় বরং বড় ঋণ গ্রহণকারীদের নিয়েই ঋণ খেলাপী সমস্যা তৈরি হয়। এক্ষেত্রে তিনি ব্যাংকগুলোর দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, ব্যাংকের পক্ষপাত যেনো ব্যাংকিং সেক্টরের মালিকদের পক্ষে না থেকে বরং উদ্যোক্তাদের পক্ষে থাকে। বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষিখাতের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তা এবং মাঝারী উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখছে। শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার সাথে শিল্পের এবং সরকারের একটা জোড়ালো সম্পর্ক প্রয়োজন থাকা বলে তিনি মত দেন। বরিশালের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সম্ভাবনার এই অঞ্চল এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে গ্যাস এবং বিদ্যুতের অপ্রতুলতার জন্য কোনো বড় শিল্প গড়ে উঠতে পারেনি। ভোলার গ্যাস ফিল্ডের মাধ্যম এই অঞ্চলে গ্যাস সাপ্লাই নিশ্চিত করা গেলে পর্যাপ্ত পরিমান শিল্পায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি বলেন।

ড মাসুদুর রহমান বলেন আমাদের পার্শ্ববর্তী প্রতিযোগী দেশের মধ্যে ভারতের জাতীয় অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০%, শ্রীলংকায় ৪৫% এবং ভিয়েতনামে ৫৫%।  এই তথ্য বিবেচনায় নিলে স্পষ্টত বংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারায় এসএমই খাতের অবদান পর্যাপ্ত নয়। ছোট ও মাঝারী শিল্পকে বড় শিল্পের মেরুদন্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন বাংলাদেশে ৮০% এর বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে সিএমএসএমই খাতের মাধ্যমে। ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা (৫৫%) বন্টনের কারন হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান কাঠামোয় আমাদের ব্যাংকগুলোর ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা খুবই কম। ব্যাংকের অভিজ্ঞতা এবং ইনফরমাল সিএমএসএমই খাতের ব্যবসায়ীদের কাগজ-পত্রের নানামুখী সমস্যার জন্য এই প্যাকেজের পুরোপুরি বন্টন এখনো সম্ভব হয় নি। তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এর জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বাজারের সাথে সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ইনফরমাল সেক্টরের ব্যবসায়ীদের ফর্মাল সেক্টরে প্রবেশ করানোর জন্য আরো কাজ করতে হবে। গত ১০ বছরে শহরের চেয়ে গ্রামে এসএমই ব্যবসায়ী বেশি সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্মসংস্থান বেড়েছে বলে তিনি দাবী করেন। যমুনা সেতুর মাধ্যমে উত্তর বঙ্গ বাংলাদেশের মূল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হলেও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ সমস্যা ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শুধুমাত্র বরিশাল ছাড়া এই বিভাগের বাকি ৫টা জেলায় কোনো বড় শিল্প কারখানা না থাকার কারনে অন্যান্য অঞ্চলের মত এই অঞ্চলে উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। জাতীয় পর্যায়ের শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাত্র সাড়ে ৪% এই অঞ্চলের হলেও এখানের জনসংখ্যা দেশের জনসংখ্যার ১২-১৩%।

প্রোগ্রামের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আইসিই সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মোঃ রাশেদুর রহমান বলেন, সম্ভাবনার এই অঞ্চলে সিএমএসএমই ব্যবসায়ীগণ নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছেন। ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজের মাত্র ২০০ কোটি টাকা এই অঞ্চলে বন্টন হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আঞ্চলিক সম্ভাবনার দ্বারকে উন্মুক্ত করে প্রসারিত করার জন্য বরিশাল অঞ্চলে সুনজর দেয়ার এখনই সময়। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত আরো ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এবং সিএমএসএমই প্রণোদনা প্যাকেজের প্রধান কর্মকর্তা মঃ আরিফুজ্জামান এবং বরিশাল উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বিলকিস আহমেদ লিলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *