আইসিসিবির বার্ষিক কাউন্সিল, বাংলাদেশ মহামারী ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই লড়াই করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সের সাথে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বৃদ্ধির হার রেকর্ড করেছে. যা দারিদ্রতা এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে সহায়তা করেছে, সোমবার (১৪ ডিসেম্বর, ২০২০) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত আইসিসি বাংলাদেশের ২৫ তম বার্ষিক কাউন্সিলে নির্বাহী বোর্ডের প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে আইসিসি বাংলাদেশেস সভাপতি মাহবুবুর রহমান একথা বলেন। আই-এল-ও-র প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন মহামারী ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে লড়াই করছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলি কেবল স্বল্প মেয়াদে সীমাবদ্ধ নয়, শ্রম ও মূলধন উভয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বড় উৎপাদনের দিকেও প্রসারিত। অর্থনৈতিক সঙ্কট করপোরাল এবং গৃহস্থালি ঋণ খেলাপির মাধ্যমে আর্থিক সংকটে রূপান্তরিত হতে পারে বলে আইসিসি বাংলাদেশের প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘুরে দাঁড়িয়েছে সয়াবিনের বাজার

অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির মতো বাংলাদেশকে কাঙ্খিত জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি মূল সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে: যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, টেকসই রফতানি, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং রেমিটেন্স প্রবাহ। বাংলাদেশে প্রায় ৭.৮ মিলিয়ন এন্টারপ্রাইজেজ রয়েছে যার ৯০ শতাংশই মাইক্রো এন্টারপ্রাইজেজ। জিডিপিতে এই মাইক্রো এন্টারপ্রাইজগুলোর অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ যার পরিমাণ প্রায় ৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে এই মাইক্রো এন্টারপ্রাইজগুলো চাপের মধ্যে পড়েছে। উপরন্তু, অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচন্ড ধাক্কা খেয়েছে। আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প খাতে দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৩০ শতাংশ সম্পৃক্ত।

বাংলাদেশ ২০২৪ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ন হলে প্রধান রপ্তানী দেশগুলোতে বাণিজ্য অগ্রাধিকারসহ অন্যান্য অগ্রাধিকার হারাবে। সুতরাং বাংলাদেশকে অবশ্যই প্রধান রপ্তানী দেশগুলোর সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উপর জোর দিতে হবে, মাহবুবুর রহমান বলেন।

টপার কিচেনওয়্যারের ১৬ শতাংশ ছাড় বিজয় দিবস উপলক্ষে

আইসিসিবির নির্বাহী পর্ষদের প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাপ ইতোমধ্যেই ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে যা অর্থনৈতিক মন্দাকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির মতো বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং কাঙ্খিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে, যার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, টেকসই রফতানি, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পর রক্ষণাবেক্ষণ, বৈদেশিক মূদ্রার সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য আটকে থাকা প্রবাসী শ্রমিকদের তাদের কর্মস্থলে ফেরত পাঠানো এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো অন্যতম। এছাড়াও, টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং সরবরাহ চেইনকে কার্যকরি ও ব্যায়সাশ্রয়ী রাখতে এমএসএমইগুলি (ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ) সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি।

মহামারীটি একটি বিশাল অর্থনৈতিক সংকোচনের সৃষ্টি করেছে যার ফলে বিশ্বের বহু অঞ্চলে আর্থিক সংকট দেখা দেবে, কারণ নন-পারফর্মিং কর্পোরেট ঋণের কারণে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। উন্নয়নশীল বিশ্বে sovereign defaults বেড়ে যেতে পারে। এই সঙ্কট সর্বশেষ সঙ্কটের মতোই পথ অনুসরণ করবে এবং সম্পদশালী দেশগুলোর চেয়ে নিম্ন-আয়ের দেশগুলিকে এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলিকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ডব্লিউ.এইচ.ও, আই.এম.এফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে জি -২০দেশসমূহ মহামারীকে কাটিয়ে উঠতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি) এ স্টেকহোল্ডারদের অনেকের সাথেই বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা হিসাবে সহযোগিতা করছে।

আইসিসিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রচারের অংশ হিসাবে আইসিসি হেডকোয়ার্টার সরকারগুলোকে এই মর্মে উদ্বুদ্ধকরণের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে যাতে করে ক্সুদ্র ও মাঝারী শিল্প এবং তাদের কর্মীদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে স্টিমুলাস এফোর্টগুলো প্রত্যক্ষ এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত প্রকৃত অর্থনীতির দিকে প্রবাহিত হয়। সরবরাহ চেইনের আন্ত:সীমান্ত প্রকৃতি অনুযায়ী এ জাতীয় প্রণোদনা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বয় রেখে করতে হবে। বিশ্বজুড়ে দেশগুলো কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তাদের অর্থনীতিকে সহায়তা করার জন্য জরুরি ব্যবস্থাসহ অর্থনৈতিক ও আর্থিক নীতি উদ্দীপনা বাস্তবায়ন করছে। এই ক্ষেত্রে, আইসিসি সংকটকালীন সময়ে”ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের সংরক্ষনের জন্য বেশকিছু কর প্রণোদনা প্রদান এবং নগদ প্রবাহের ধারা অক্ষুন্ন রাখার উপর জোর দিয়েছে।
কাউন্সিল ২০১৯ সালের অডিটর রিপোর্টকে অনুমোদন দিয়েছে এবং ২০২০ সালের জন্য অডিটর নিয়োগ দিয়েছে।

বার্ষিক কাউন্সিলে আইসিসি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বিজনেস আইকন লতিফুর রহমান; আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য ওয়ালিউর রহমান ভূঁইয়া, ওবিই; বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক; অ্যাপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর এলাহীর স্ত্রী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মিসেস নীলুফার মনজুর; জাতীয় অধ্যাপক ডঃ জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং অধ্যাপক আনিসুজ্জামানসহ একাধিক ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আল্লাহ তাদেরকে বেহেস্তের চিরশান্তি প্রদান করুক- এই দোয়া করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *