এগ্রো প্রসেসিং শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান স্পেনের ব্যবসায়ীদের

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশে এগ্রো প্রসেসিং শিল্পে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেনের বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব আনুষ্ঠানিকতা সহজ করা হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি এ্যাসিস বেনিটেজ সালাসের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকনোমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চীন, কোরিয়া, জাপান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে এসেছে। চীন, ভারতসহ এ অঞ্চল পণ্যের একটি বড় বাজার। বাংলাদেশে পর্যাপ্ত দক্ষ যুব জনশক্তি রয়েছে। সবদিক বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের চমৎকার স্থান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্পেন বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম রফতানি বাজার। স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রচুর সুযোগ রয়েছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা সফর বিনিময়ের মাধ্যমে এ বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ স্পেনের কাছ থেকে চলমান জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখবে বলে প্রত্যাশা করছে।

তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য। এ শিল্পে প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছে, এর সিংহভাগই নারী। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের অধিকার ও কাজের ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। শ্রমিকরা এখন কর্মবান্ধব পরিবেশে নিরাপদে কাজ করছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ আরও বেশ কিছু পণ্য রফতানির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একান্তই মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছেন। স্পেন এ ইস্যুতে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে স্পেনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি এ্যাসিস বেনিটেজ সালাস বলেন, স্পেন বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট। বাণিজ্যিক দিক থেকেও স্পেন বাংলাদেশকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে স্পেন খুশি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে স্পেনে। আগামীতে আরও বেশি পরিমাণে তৈরি পোশাক স্পেন বাংলাদেশ থেকে আমদানি করবে, বাণিজ্যের পরিধিও বাড়বে। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এতে স্পেন খুশি। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরও স্পেন বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, স্পেনের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করছে। স্টিল ব্রিজ, রেলওয়েসহ বেশ কিছু সেক্টরে স্পেনের প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাংলাদেশে কাজ করছে এবং টেকনিকেল সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা সফর বিনিময় করলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে। বাংলাদেশের এগ্রো প্রসেসিং সেক্টরে বিনিয়োগের বিষয় পরীক্ষা করে দেখবে স্পেন।

উল্লেখ্য, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ স্পেনে রফতানি করেছে ২,৫৫৪.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে আমদানি করেছে ১৮০.১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। উভয় দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২,৭৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কোভিড-১৯ এর কারণে গত অর্থবছরে বাণিজ্যের পরিমাণ কম ছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (রফতানি) মো. আব্দুর রহিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *