রিয়ালের জালে ৪ গোল

নিন্দুক-সমালোচকদের একটি অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়- স্প্যানিশ লা লিগায় বাড়তি সুবিধা পেয়ে থেকে রিয়াল মাদ্রিদ, হারতে থাকা ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি দিয়ে তাদেরকে জিতিয়ে দেয়া হয়। তবে রোববার রাতের ম্যাচ যারা দেখেছেন, তাদের সামনে আর এমনটা বলার কোনো সুযোগই থাকছে না।

কেননা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে যে তিন-তিনটি পেনাল্টি গোল হজম করতে হয়েছে রিয়ালকে। সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে একটি আত্মঘাতী গোল। সবমিলিয়ে এক হালি গোল হজম করে বিপর্যস্ত অবস্থায় বার্নাব্যুতে ফিরেছে লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলের পক্ষে একটি গোল করেছেন ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা।

অথচ প্রতিপক্ষের মাঠে হওয়া ম্যাচটিতে সকল পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল রিয়াল। পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশ সময় বলের দখল রেখেছে নিজেদের কাছে, আক্রমণে উঠেছে উন্তত ১৬ বার। ম্যাচের প্রথম গোলও করেছিল তারাই। কিন্তু ডিফেন্ডারদের একের পর এক ভুলে পেনাল্টি হজম করে বিব্রতকর এক পরাজয়ই পেতে হয়েছে তাদের।

অবশ্য ভ্যালেন্সিয়ার ঘরের মাঠে মেস্তালায় রিয়ালের এমন দুর্দশার চিত্র নতুন নয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে তারা এখানে হেরেছিল ১-২ ব্যবধানে, খানিক উন্নতি করে ২০১৯-২০ মৌসুমে ড্র করে ১-১ গোলে। আর এবার ছাপিয়ে গেল আগের দুই ম্যাচের ব্যর্থতা। ম্যাচ হারল ১-৪ গোলের ব্যবধানে।

তবে এবার ম্যাচের শুরু থেকেই সাজানো ফুটবল খেলছিল রিয়াল। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে তারা সময় নেয় ২৩ মিনিট। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলোর ব্যাকপাস ডি-বক্সের ঠিক বাইরে পান ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড বেনজেমা। ডান পায়ের জোরালো শটে ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।

ম্যাচের বাকি সময়টা শুধুই রিয়াল ডিফেন্ডারদের ব্যর্থতার গল্প। ২৯ মিনিটের সময় ভ্যালেন্সিয়ার ডিফেন্ডার হোসে গায়ার ক্রস ডি-বক্সের মধ্যে হাতে লাগে লুকাস ভাস্কুয়েজের। ফলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে ম্যাচে সমতা ফেরান কার্লোস সোলার।

তখনও সোলার নিশ্চয়ই জানতেন না ম্যাচে আরও দুইটি পেনাল্টি নিতে হবে তাকে। তার আগে অবশ্য ভ্যালেন্সিয়াকে এগিয়ে দেন রিয়াল ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানেই। প্রথমার্ধের বিরতির মিনিট দুয়েক আগে ডি-বক্সের মধ্যে বাড়িয়ে দেয়া ম্যাক্সি গোমেজের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে সেটি নিজেদের জালেই প্রবেশ করান ভারানে।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে মাত্র ৯ মিনিটের মধ্যে আবারও পেনাল্টি পায় ভ্যালেন্সিয়া। ডি-বক্সের মধ্যে গোমেজকে ফাউল করেন মার্সেলো, আবারও সফল স্পটকিকে গোল করেন সোলার। এর মিনিট নয়েকের মধ্যে ডি-বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করেন রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস। ম্যাচে তৃতীয় পেনাল্টির মাধ্যমে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সোলার।

একের পর এক পেনাল্টি এবং মাঝে আত্মঘাতী গোলের ধাক্কাটা সইতে পারেনি রিয়াল। গোলের সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। পুরো ম্যাচে অন্তত ৭টি শট লক্ষ্যে রাখলেও সেগুলোকে গোলে পরিণত করা হয়নি জিনেদিন জিদানের শিষ্যদের। ফলে বড় পরাজয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।

এ পরাজয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের চারে নেমে গেছে রিয়াল। এখনও পর্যন্ত ৮ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১৬ পয়েন্ট। বড় জয় পেলেও ৯ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে রয়েছে ভ্যালেন্সিয়া। শীর্ষে থাকা রিয়াল সোসিয়েদাদের সংগ্রহ ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *