স্টাফ রিপোর্টার »

ইসরায়েলের তেল আবিবে গাঁজাকে বৈধতা দেয়ার জন্য ভিন্ন ধরনের আন্দোলন চালিয়েছে ‘গ্রিন ড্রোন’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ। জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, গ্রুপটি  তেল আবিবের রবিন স্কোয়ারে একটি ড্রোন থেকে কয়েক শ’ ছোট ছোট প্যাকেট গাঁজা ফেলেছিল এবং দর্শক ও পথচারীরা তা পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে কুঁড়ানোর প্রতিযোগিতা করছিল।

তবে এ ঘটনায় তেল আবিবের বাসিন্দারা দাবি করেছেন যে, এভাবে ড্রোন চালিয়ে নগরীতে প্রচুর অবৈধ গাঁজার চালান সরবরাহ করা হয়েছে। এতে অনেকে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন।

খবরে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া টেলিগ্রামের মাধ্যমে আগেই নিজেদের কর্মসূচি জানিয়ে দিয়েছিল ‘গ্রিন ড্রোন’। এই গ্রুপটি বিগত প্রায় তিন বছর ধরে ইসরায়েলে গাঁজার বৈধতা দেওয়ার জন্য আন্দোলন করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে করোনাভাইরাস লকডাউনে গাঁজাসেবীদের কাছে সহজেই গাঁজা পৌঁছানোর উপায় হিসেবে ড্রোন দিয়ে আকাশ থেকে গাঁজা বিতরণ করেছে এবং এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘রেইন অব ক্যানাবিস।’

জানা যায়, ইসরায়েলে মেডিসিন হিসেবে গাঁজা বৈধ হলেও দেশটি ২০১৭ সালে আনন্দ-বিনোদন হিসেবে গাঁজা ব্যবহারকে আংশিকভাবে নিষিদ্ধ করে। একারণে সম্পূর্ণ বৈধকরণের জন্যই গ্রিন ড্রোন গ্রুপের এই আন্দোলন। গ্রুপটি টেলিগ্রামে তাদের সমর্থনকারীদের জানিয়েছে, ‘এটি চলমান আন্দোলন। ভবিষ্যতেও এমন গাঁজার বৃষ্টিপাত হবে।’

এই কর্মসূচির আগে তারা এক বার্তায় লিখেছিল, ‘প্র্রিয় ভাইয়েরা আমার, সময় এখন আমাদের। গ্রিন ড্রোন কোনো পাখি বা বিমান নয়। এটি একটি পরিষেবা, যে পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে বিনামূল্যে গাঁজা পৌঁছে দেবে। তোমরা ফুর্তি করো।’

টেলিগ্রাম বার্তায় তারা আরও জানিয়েছিল, রেইন অব ক্যানাবিস (গাঁজার বৃষ্টি) নামক যে প্রকল্প চালু করছে গ্রিন ড্রোন, এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতি সপ্তাহের দুই দিন এক কেজি করে গাঁজা উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে। এতে ৫ শ’ প্যাকেট গা্ঁজা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাপ্তাহিক বিতরণ করা হবে।

এদিকে কেউ কেউ বলছেন, অভিনব এই পদ্ধতিতে গাঁজা বিতরণের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য বা নিজেদের ভাইরাল করার বিষয়টিও থাকতে পারে। তাছাড়া এটির উদ্দেশ্য ব্যবসায়িকও হতে পারে। কেননা ‘গ্রিন ড্রোন’ একটি গাঁজা সরবরাহকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং প্যাকেটগুলোতে সম্ভাব্য গ্রাহকদের জন্য যোগাযোগের নম্বরসহ ব্যবসায়িক কার্ড দেয়া রয়েছে।

খবরে আরো বলা হয়েছে, গাঁজার কিছু প্যাকেট রবিন স্কয়ারে না পড়ে কাছের ইবনে গাবিরল স্ট্রিটে পড়েছিল। এটি বাতাসের কারণে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ব্যাগগুলোতে বিপজ্জনক ড্রাগ ‘উহ হুহ’ আছে বলে সন্দেহ করছে স্থানীয় পুলিশ। এজন্য কয়েক ডজন প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। ড্রোন চালনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ওই সন্দেহভাজনদের আপাতত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

 

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »