স্টাফ রিপোর্টার »

চ্যাম্পিয়নস লিগে সহজ জয় পেয়েছে ইংলিশ দুই ক্লাব লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার রাতে লিভারপুল ২-০ গোলে হারিয়েছে মিউজিল্যান্ডকে। ৩-০ গোলে মার্শেইকে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যানসিটি।

ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে শুরুর একাদশে মোহামেদ সালাহ, সাদিও মানে আর রবার্তো ফিরমিনোকে খেলাননি জার্গেন ক্লপ। প্রথমার্ধে লিভারপুলকে বেশ অচেনাই ঠেকেছে। গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫ মিনিটে লিভারপুলকে এগিয়ে নেন দিয়েগো জোতা। জেরদান শাচিরি ডি-বক্সের ডান দিকে পাস দেন ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডকে। তার বাড়ানো বল সহজেই জালে পাঠান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।

এর পাঁচ মিনিট পর সালাহ ও মানেকে একসঙ্গে বদলি হিসেবে নামান কোচ, পরে নামানো হয় ফিরমিনোকেও। তারপরও দাপট দেখিয়ে খেলতে পারছিল না লিভারপুল। তবে যোগ করা সময়ে তারা একটি পেনাল্টি পায়। যা থেকে ব্যবধান ২-০ করেন সালাহ।

টানা দ্বিতীয় জয়ে ‘ডি’ গ্রুপে শীর্ষে আছে লিভারপুল। এক জয় নিয়ে আটলান্টা দুইয়ে, জয় না পাওয়া আয়াক্স আর মিউজিল্যান্ড আছে যথাক্রমে তিন আর চার নম্বর অবস্থানে।

লিভারপুল

লিভারপুল

এদিকে ফরাসি ক্লাব মার্শেইয়ের মাঠে দাপুটে জয়ই পেয়েছে ম্যানসিটি। ৩-০ জয় পাওয়া ম্যাচের বল পজিশন, শট সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা।

১৮ মিনিটে ম্যানসিটিকে এগিয়ে নেন ফার্নান্দো তোরেস। দ্বিতীয়ার্ধে ৭৮ মিনিটের মাথায় ব্যবধান ২-০ করেন গুন্দোগান। এর পাঁচ মিনিট পর শিবিরে ফের উৎসব ছড়ান রহিম স্টার্লিং।

শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ম্যানসিটি। এটি চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে তাদের টানা দ্বিতীয় জয়।

এই জয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে ম্যানসিটি। দুইয়ে পোর্তো এবং তিন ও চার নম্বরে যথাক্রমে অলিম্পিয়াকোস আর মার্শেই।

মঙ্গলবার রাতে ‘বি’ গ্রুপের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। মার্কাস থুরামের জোড়া গোলে ৫৮ মিনিটে ২-০তে পিছিয়ে পড়া রিয়াল ৮৭ মিনিটে করিম বেনজেমার গোলে আশা ফিরে পায়। আর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো।

অথচ আক্রমণ আর বল দখলে প্রতিপক্ষ থেকে বেশ এগিয়েই ছিল রিয়াল। কিন্তু ভালো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি। এর মধ্যেই ম্যাচের ৩৩ মিনিটে এক গোল হজম করে বসে জিদানের দল।

ডান দিক থেকে সতীর্থের কোনাকুনি পাস ডি-বক্সে পেয়ে জোরালো এক শটে জাল কাঁপান ফরাসি ফরোয়ার্ড থুরাম। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটের মাথায় মনশেনগ্লাডবাখকে আবারও আনন্দে ভাসান তিনিই।

আলেসান প্লার নিচু শট ঝাঁপিয়ে ঠেকালেও ধরে রাখতে পারেননি গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, আলগা সেই বল পেয়ে সহজেই গোল করেন থুরাম।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে যেন দিশেহারা হয়ে পড়ে রিয়াল। অগোছালো ফুটবল খেলতে থাকে। গোল আরও পেতে পারতো মনশেনগ্লাডবাখ। কিন্তু কোর্তোয়ার কয়েকটি সেভ আর ভাগ্য বাঁচিয়ে দেয় রিয়ালকে।

ম্যাচ তখন প্রায় শেষের পথে। রিয়াল শিবিরে আশার সঞ্চার করেন বেনজেমা। ৮৭তম মিনিটে কাসেমিরোর হেড থেকে অনেকটা বাইসাইকেল কিকের ভঙ্গিমায় ব্যবধান কমান ফরাসি ফরোয়ার্ড।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোল পেয়ে যান কাসেমিরো নিজেই। ডান দিক থেকে লুকা মদ্রিচের ক্রসে হেড করে রামোস বল দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারকে। আলতো টোকায় গোল করতে ভুল করেননি কাসেমিরো। তাতেই ২-২ গোলের নাটকীয় এক ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইন্টার মিলানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে শাখতার দোনেৎস্ক। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা। মনশেনগ্লাডবাখ ও ইন্টারের দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ২। ১ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল আছে সবার শেষে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »