স্টাফ রিপোর্টার »

দেশের চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এর পেছনে বেশ কিছু কারণকে দায়ী করেছেন উদ্যোক্তারা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

‘ফিউচার অব বাংলাদেশ লেদার সেক্টর ইন দ্য আফটার ম্যাথ অব কভিড-১৯’ বিষয়ে এক অনলাইন সেমিনার (ওয়েবিনার) করে মঙ্গলবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। অনুষ্ঠানে চামড়া খাত নিয়ে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদ ও অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অ্যাপেক্স গ্রুপের প্রধান সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘চামড়াজাত পণ্যের কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রত্যাশিত অগ্রগতি করতে পারিনি। অথচ ভিয়েতনাম কাঁচামাল না থাকা সত্ত্বেও এই খাতের রপ্তানিতে বহু দূর এগিয়ে গেছে। চামড়া খাতের উন্নয়নে একক সংস্থার ওপর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ সময় বক্তারা প্রায় এক যুগেও সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর যথাযথ প্রস্তুত না হওয়া, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং বর্জ্য নদীতে যাওয়ায় পরিবেশ দূষণ এবং এসব কারণে আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। বিশেষত বর্তমান বাস্তবতায় প্রকল্পটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন কেউ কেউ।

সালমান এফ রহমান সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে (চীনের একটি কম্পানি) দায়ী করে বলেন, তারা ঠিকমতো কাজ করেনি। এ ছাড়া প্রকল্পটি ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগেই আদালতের নির্দেশে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারিগুলো যেতে বাধ্য হওয়ায় সমস্যা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত বছর গিয়েও দেখলাম সিইটিপিসহ (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) প্রকল্পের কোনো কিছুই প্রস্তুত হয়নি। এ সময় তিনি প্রকল্পে বর্তমানে মাত্রাতিরিক্ত পানির ব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, এটি নিয়ন্ত্রণে না এলে আমরা পানির ওপর কর আরোপে বাধ্য হব। এ ছাড়া চামড়া শিল্পের উন্নয়নে ভিয়েতনামের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করা, রপ্তানি পণ্যে চামড়া ও চামড়াবিহীন পণ্য আলাদা করার ওপর গুরুত্ব দেন।’

ওয়েবিনারে আয়োজনে সহযোগিতা করে রিসার্স অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (রেপিড) এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক ও নির্বাহী পরিচালক ড. আবু ইউসুফ।

 

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »