বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

বিদেশ ফেরত বাংলাদেশিদের অধিকাংশই বর্তমানে কর্মহীন। আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে আইওএম। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ১২ জেলায় বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের ওপর এ জরিপ পরিচালিত হয়।

‘র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট অব নিডস অ্যান্ড ভালনারেবিলিটিস অব ইন্টার্নাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিটার্ন মাইগ্র্যান্টস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের এ জরিপের তথ্যে দেখা যায়, ২০২০-এর ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে যারা বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন তাদের মধ্যেই ৭০ শতাংশই কর্মহীন। কর্মহীন হওয়ার কারণে তারা আর্থিক ও স্বাস্থ্য সংকটে পড়েছেন। তারা মানসিক অবসাদেও ভুগছেন।

জরিপ পরিচালনা সম্পর্কে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এক হাজার ৪৮৬ জন বিদেশফেরত ব্যক্তির ওপর চালানো জরিপের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২০ সালের মে এবং জুলাই মাসে জরিপের পরিচালনার জন্য সেই ১২টি জেলা বেছে নেওয়া হয়, যে সব জেলায় বিদেশে অভিবাসনের প্রবণতা বেশি। যে ব্যক্তিদের মধ্যে জরিপ চালানো হয়, তারা ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশে ফিরেছেন। জরিপের জন্য নির্দিষ্ট জেলাগুলোর মধ্যে সাতটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। জরিপটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ‘রিজিওনাল এভিডেন্স ফর মাইগ্রেশন এনালাইসিস অ্যান্ড পলিসি (রিমেপ)’- প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হয়েছে।

জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর মহামারির সময় তারা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। মোট ৬৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক অভিবাসী উল্লেখ করেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তারা যেসব দেশে কাজ করতেন, সেখানে তাদের স্বাস্থ্যসেবা এবং এ সম্পর্কিত তথ্য পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৯ শতাংশ বলেছেন, তাদের কর্মস্থল দেশের কর্তৃপক্ষ তাদের দেশ ত্যাগ করতে বলায় তারা স্বদেশে ফিরতে বাধ্য হন। ২৩ শতাংশ জানান, তারা কোভিড-১৯ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এবং পরিবারের কাছে ফেরত আসতে আগ্রহী ছিলেন। ২৬ শতাংশ জানান, তাদের পরিবার তাদের বার বার ফিরে আসতে অনুরোধ করায় তারা ফিরে এসেছেন। ৯ শতাংশ জানান, মহামারির সময় আর্ন্তজাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার কারণে আটকে পড়ার ভয়ে তারা দ্রুত দেশে ফিরে আসেন।

জরিপের তথ্যে বলা হয়, জরিপে অংশ নেওয়াদের ৭০ শতাংশই দেশে ফিরে নতুন কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেননি। ফলে তাদের কর্মহীন থাকতে হয়। ৫৫ শতাংশ জানান, তাদের ওপর শোধ না করা ঋণের বোঝা রয়েছে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ পরিবার ও বন্ধুর কাছে ঋণগ্রস্ত, ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ঋণপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণের দায়ে আবদ্ধ এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পাওনাদারের কাছে ঋণগ্রস্ত ১৫ শতাংশ। পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে যারা ঋণ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ বিনা সুদে ঋণ নিয়েছেন। অন্যদিকে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী সংস্থা, এনজিও এবং বেসরকারি ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নিয়েছেন তাদের ঋণের জন্য সুদ বহন করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। মহাজন বা সুদে টাকা ধার দেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণগ্রহীতাকে ৫০ থেকে ১৫০ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে।

জরিপে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান, তারা আবার অভিবাসনে আগ্রহী। তারা কোভিড-১৯ মহামারির আগে যে দেশে কাজ করতেন সেই দেশেই আবার যেতে চান। ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী আরও ভালো বেতনের চাকরি নিশ্চিতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাদের আগ্রহের কথা জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে আইওএম বাংলাদেশ-এর মিশন প্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত অংশের মধ্যে রয়েছেন অভিবাসী কর্মীরা। এবং কোভিড-১৯ মহামারি সৃস্ট অর্থনৈতিক মন্দা এবং বৈশ্বিক চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মী এবং রেমিট্যান্স নির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপর।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন বিষয়ক গবেষণায় অবদান রাখতে সবসময়ই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »