বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে হিরোশিমা দিবসের ৭৫তম বার্ষিকীতে দিনটিকে স্মরণ করছে জাপান। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছে, তখন জাপানের হিরোশিমা শহরে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। কিছু বুঝে উঠার আগেই ওই পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত হন। মাটির সঙ্গে মিশে যায় বেশিরভাগ পুরো হিরোশিমা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বছর শেষে আরও ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

সেই হামলা থেকে বেঁচে যাওয়াদের পাশাপাশি হামলায় নিহতদের আত্মীয়স্বজন ও বিদেশি প্রতিনিধিরা এসব আয়োজনে অংশগ্রহণ করছেন। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তির ডাক দিয়েছেন তারা। তবে করোনার কারণে এবার হিরোশিমা দিবসে হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কে জনসমাগমে অনুমতি দেওয়া হয়নি। দিবসের সব আয়োজন অনলাইনে সম্প্রচার করা হচ্ছে। আর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন তাদের সবাই ছিলেন মাস্ক পরিহিত।

দিবসটি উপলক্ষে হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তার মতে, এই উগ্র জাতীয়তাবাদই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মাতসুই। বলেছেন, ‘এমন দুঃসহ অতীতের পুনরাবৃত্তি আমরা হতে দিতে পারি না। সভ্য সমাজকে অবশ্যই আত্মকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ পরিত্যাগ করতে হবে এবং সকল হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

মাতসুই বলেছেন, হিরোশিমা আামদের নাগরিক সমাজের কাছে বিশ্ব শান্তি অব্যাহত রাখা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপকে সম্ভব করে তোলার তাগিদ হাজির করে।

জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজে আবে তার বিবৃতিতে বলেছেন, প্রত্যেক দেশেরই উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপের মধ্য দিয়ে নিজেদের মধ্যকার অবিশ্বাস দূর করা।

সেই ১৯৪৫ সাল। জাপানের হিরোশিমা শহরে স্থানীয় সময় তখন সকাল আটটা ১৫ মিনিট। আগেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান। মার্কিন বি-টুয়েন্টি নাইন বোমারু বিমান এনোলা গে থেকে হিরোশিমায় ফেলা হয় আণবিক বোমা ‘লিটল বয়’। বোমাটি প্রায় ৫০০ মিটার উঁচুতে বিস্ফোরিত হয়।

হিরোশিমার ঘটনার তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে ফ্যাটম্যান নামে আরকেটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তাতে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ নিহত হন। তবে জাপানের আসাহি শিমবুনের এক হিসাবে বলা হয়েছে, বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগসমূহের কারণে দুই শহরে চার লাখের মতো মানুষ মারা যান। এদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

আণবিক বোমা হামলার এতো বছর পরও শহর দুটোতে জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু। ক্যান্সারসহ দুরারোগ্য রোগে ভুগছে বহু মানুষ। দিবসটি পালনে জাপান সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »