বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

“ক্লাউড” শব্দটি আমরা অনেকেই কম বেশি শুনেছি। অনেকেই অনেক ভালো জানেন। আবার অনেকের জানা টা ভাসাভাসা। আজ আমরা ক্লাউড এর বেসিক কিছু জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করব একটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য। এমনিতেই শেষ পর্যন্ত পড়তে পড়তে চারপাশ মেঘে(Cloud)  ঢাকা মনে হতে পারে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক। আলোচনার সুবিধার্থে আমরা পর্যায়ক্রমে নিচের বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলবঃ

ক্লাউড কম্পিউটিং কি?
ক্লাউড স্টোরেজ কি?
এটি আমরা কেন ব্যবহার করি?
এটি কিভাবে আমাদের নানান ডিভাইস পরিবর্তন করছে?
ক্লাউড এর অসুবিধা।
ক্লাউড এর ভবিষ্যৎ।
প্রথমে জেনে নেয়া যাক ক্লাউড কম্পিউটিং কি?
খুব সহজ করে বলতে গেলে ক্লাউড কম্পিউটিং হল নিজের দরকারে আরেকজন এর জিনিসপত্র শেয়ার করা। একটা উদাহরণ দেয়া যাক। যেমন, এক সময় সিডি প্লেয়ার এর খুব প্রচলন ছিল। তখন ক্যাবল টিভি হরেক রকমের চ্যানেল ছিলনা।

বিনোদন ছিল সীমাবদ্ধ। তখন অনেকেই সিডি প্লেয়ার কিনে সবাই মিলে মুভি দেখতো। তো একটা মুভি সাধারণত একবার দেখার পর সেটা আর বারবার দেখা হয়না। আবার ২/৩ দিন পরপর মুভি দেখতে গেলে সিডি কিনে দেখাও পোষাতো না।  তো এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান ছিল ভাড়ায় সিডি এনে দেখা। সিডি ভাড়া দেয়ার ও অনেক দোকান ছিল তখন।

এতে যে কয়দিন রাখবেন সিডি সে হিসেবে দোকানে ভাড়া দিতে হবে। আবার দোকানদার এর ও লাভ। কারণ একজন গ্রাহক সিডি ফেরত দিলে সেটা দোকানে পড়ে থাকেনা ,কেউ না কেউ আবার নিয়ে যায়। সেও একই সিডির জন্য বারবার ভাড়া পায়।

বিভিন্ন লাইব্রেরী থেকে একইভাবে বই ও ভাড়া পাওয়া যেতো। কারণ যারা অনেক বই পড়ে তাদের সব বই কিনে পড়ার সামর্থ্য থাকেনা কিংবা অনেক বই একবার পড়লেই হয়। তো কয়েকদিনের জন্য ভাড়া পাওয়া গেলে পাঠক এর ও সুবিধা আবার যারা ভাড়া দিতো সেসব বই তাদের ও লাভ। লাইব্রেরীতে অলস পড়ে থাকার চেয়ে একই বই তারা পুনঃপুন পাঠক কে ভাড়ায় পড়তে দিয়ে লাভ করতে পারত।

যাই হোক, ক্লাউড এর ধারণার সাথে এটা কিভাবে মিলে সেইদিকে যাওয়া যাক।

ক্লাউড কম্পিউটিং হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবা দেয়ার একটি মাধ্যম। ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান অন্যের রিসোর্স যেমন ভার্চুয়াল মেশিন, স্টোরেজ, কিংবা অন্য কোনো সেবা নিতে পারে। এর জন্য উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আলাদা ভাবে পুরো অবকাঠামো তৈরির কোনো দরকার পড়ে না। যেমন, আপনার কয়েকদিনের জন্য একটা হাই পারফরম্যন্স এর কম্পিউটার এর দরকার পড়ল। সবসময় যেটার কোনো কাজ নেই। এখন কয়েকদিনের জন্য এমন কনফিগারেশান এর কম্পিউটার কিনেও পোষায় না। খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে যাবে। তখন আপনি ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে যে কোনো ক্লাউড কোম্পানি থেকে আপনার যে কয়দিন দরকার ঠিক সেই কয়দিনের জন্য ভার্চুয়ালি আপনার দরকার মত মেশিন ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আপনার বাড়তি অনেক খরচ যেমন বেঁচে যাবে তেমনি কোম্পানির ও কোনো লস নাই আপনাকে কয়দিনের জন্য একটা রিসোর্স ভাড়া দিয়ে। কারণ তাদের রিসোর্স অলস বসে থাকেনা। অনবরত কেউ না কেউ ভাড়া নিচ্ছে আবার ফেরত দিচ্ছে।

এক লাইনে বলতে গেলে, ক্লাউড কম্পিউটিং একটা ব্যবসায়িক মিথস্ক্রিয়ার মত। যাতে সেবাদাতা এবং গ্রহীতা দুই পক্ষই লাভবান হয়।

আর “ক্লাউড” শব্দটা মূলত এসেছে, বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং সিস্টেমের ডায়াগ্রামে ইন্টারনেট এর অংশটুকু বোঝানোর জন্য পুঞ্জীভূত এক গুচ্ছ মেঘ ব্যবহার করা হত। সেখান থেকেই ক্লাউড নামকরণ।

এটি আমরা কেন ব্যবহার করি?
ক্লাউড কম্পিউটিং এর কিছু আকর্ষণীয় সুবিধা আছে বিশেষ করে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে। এসব জানার পরে সহজেই বোঝা যাবে আমরা কেন এটি ব্যবহার করি কিংবা করব?

১। নিজের চরকায় নিজেই তেল লাগানোর ব্যবস্থাঃ এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক তার চাহিদামত রিসোর্স ব্যবহার করতে পারেন এবং কাজ শেষে তা ফেরত দিয়ে দিতে পারেন । এতে তার বাড়তি মেইনট্যানেন্সের জন্য লোক রাখতে হয়না। যেমন ধরুন, আপনার একটা সুপারশপ আছে। এবং ২ জন সেলসম্যান আছেন।সারাদিন সেখানে কাস্টমারের ভিড় সমান থাকেনা। বিকেলের দিকে ঘন্টা তিনেক ভিড় সরবোচ্চ থাকে, তখন ২ জনের সেলসম্যানের পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব হয়না। ওই ৩ ঘন্টার চাপ সামলাতে বাড়তি আরো ৩/৪ জন সেলস্ম্যান দরকার পড়ে। কিন্তু ৩ ঘন্টার জন্য বাড়তি সেলস্যম্যানদের সারাদিন তেমন কাজ নেই। সুতরাং এদের সারাদিনের জন্য বেতন দিয়ে রাখাও পোষায় না। এক্ষেত্রে ক্লাউড কোম্পানি আপনাকে শুধু ৩ ঘন্টার জন্যই আপনার দরকারী সেবা আপনাকে দিতে পারে। যা আপনার অনেক খরচ বাচিয়ে দিতে সক্ষম।

২। যত লাগে তত নিনঃ এটা বলতে বোঝায় আপনার ঠিক যতটুকু লাগবে আপনি ততটুকুই নিতে পারবেন। আপনাকে বেশি বা কম নিতে হবেনা। যেমন, আজ মেন্যু বেশি ৫ টা পাতিল লাগবে রান্না করতে সুতরাং ৫ টাই নিলেন। কাল হয়ত ২ পাতিলেই হয়ে যাবে বাকি ৩ টা ফেরত দিলেন। আবার হয়ত মেন্যু বাড়ল ৭ টা পাতিল লাগবে বাড়িয়ে নিলেন। আপনার সুবিধামতই ক্লাউড কোম্পানিগুলো আপনাকে আপনার দরকারী সেবা দিবে।

৩। সেবা যত, টাকা ততঃ আপনি যতক্ষণ রিসোর্স ধরে রাখবেন ঠিক ততক্ষণের জন্যই আপনাকে টাকা দিতে হবে। রিসোর্স ছেড়ে দিলেন তো আর পে করতে হবেনা, আবার নিলেন যতক্ষণ কাজ করাবেন ততক্ষণ এর জন্য পে করার সুবিধা আছে আপনার। হোটেল এর মত নয়, যে চেক ইন করলেন তো ২০ মিনিট থাকলেও ২৪ ঘন্টার ভাড়া গুণতে হবে, আবার ২৪ ঘণ্টা থেকে ২৪ মিনিট বেশি হয়ে গেলে বাড়তি আরো ২৪ ঘণ্টার ভাড়া গুণতে হবে।

৪। যেখানে মধু, সেখানেই যদুঃ আপনি মাইগ্রেট ও করতে পারেন। আপনি যে কোম্পানি থেকে বর্তমানে সেবা নিচ্ছেন কোনো কারণে অন্য কোম্পানি থেকে আরো ভালো সেবা পেলে আপনি মুহূর্তের মাঝেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে সেই কোম্পানির সেবা নিতে পারেন। কোনো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল বা থ্রেট নাই।

৫। চৌধুরী সাহেবের মত লম্বা হাতঃ আপনি যে কোনো জায়গা থেকে ফোন বা পিসির মাধ্যমে আপনার ক্লাউড কম্পিউটিং এর কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ইন্টারনেটের সাহায্যে। আপনাকে এটার জন্য সারাদিন অফিসে বসে থাকা কিংবা আলাদাভাবে মেইনট্যানেন্সের কথা চিন্তা করতে হবেনা।

৬। আপনার চেয়ে আপনার ডাটার সিকিউরিটি বেশিঃ আপনি গুম হয়ে যাইতে পারেন যেকোনো মুহূর্তে কিন্তু আপনার ডাটা গুম হওয়ার ভয় নেই। আপনার যদি অনেক বেশি ডাটা থাকে আপনি হয়ত আলাদা হার্ডডিস্ক ব্যবহার করে ব্যাক আপ রাখলেন। কিন্তু সেই হার্ডডিস্ক যে ক্র্যাশ করবেনা সেই গ্যারান্টি নাই। আবার অন্য কোনোভাবেও আপনি ডাটা হারিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু ক্লাউডে আপনার এই ভয় নেই। আপনার ডাটা রক্ষার গ্যারান্টি ক্লাউড আপনাকে দিবে। সুতরাং এই সুযোগে আপনি নিজের দিকে একটু বেশি খেয়াল রাখার সময় ও পাবেন।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রকারভেদঃ
ব্যবহারকারীর ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ক্লাউড কম্পিউটিং ৪ ধরণের হয়ে থাকেঃ

১। পাবলিকঃ পাবলিক ক্লাউড বলতে বোঝায় যেখানে একই রিসোর্স কয়েকজন থেকে শুরু করে, কয়েক হাজার কিংবা কয়েক লাখ গ্রাহক শেয়ার করতে পারে।। পাবলিক ক্লাউডে সাধারণত সফটওয়্যার সেবা দেয়া হয় (Software-as-a-Service)। যেমন, একটা উদাহরণ দেয়া যাক। গুগল এর জিমেইল তো আমরা প্রায় অনেকেই ব্যবহার করে থাকি। এটি একটি পাবলিক ক্লাউড এর উদাহরণ। গুগল এর সমীক্ষা মতে, ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাসিক জিমেইল সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন। যেখানে প্রতিটি জিমেইল একাউন্ট আলাদা পাসওয়ার্ড এর সাহায্যে সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু যেখানে এই সফটওয়্যারটি স্টোর করা আছে সেটি ১ বিলিয়ন মানুষ শেয়ার করছে। এটাই মূলত পাবলিক ক্লাউড সেবার মূল ধারণা।

২। প্রাইভেটঃ এটা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের কাজে ব্যবহার করে থাকে। এর বাইরে কারো সাথে শেয়ার করার সুযোগ নেই।

৩। হাইব্রিডঃ এটাতে পাবলিক এবং প্রাইভেট দুইটাই আছে। একটা অংশ হয়ত পাবলিক যেখানে অন্য একটা অংশ প্রাইভেট। যেমন, একটা কোম্পানি তাদের কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য পাবলিক ক্লাউড অংশ ব্যবহার করছে, আবার কাস্টমারদের ডাটা রাখার জন্য প্রাইভেট ক্লাউড অংশ ব্যবহার করছে।

৪। কমিউনিটিঃ এটা একাধিক প্রতিষ্ঠান শেয়ার করতে পারে। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে কারো এর একসেস নেই।

Types of Cloud Computing based on Users
সার্ভিস বা সেবার উপর ভিত্তি করে আবার ক্লাউড কম্পিউটিং কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়ঃ

IaaS: Infrastructure-as-a-Service: এতে অবকাঠামো বা Infrastructure ভাড়া দেয়া হয়। যেমন, কারো যদি একটা মেশিন লাগে তার কাজের জন্য তাহলে ভার্চুয়ালি সেই মেশিন ভাড়া দেয়া হল কিংবা নেটওয়ার্কিং সেবা দেয়া হল। যদিও গ্রাহকের কাছে এর কোনো হার্ডওয়্যার রূপ নাই তবে এটি একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার এর মতই কাজ করে। এখানে ইউজার নিজের মত করে সেই মেশিনে দরকারী কাজ করতে পারেন।এবং পুরো নিয়ন্ত্রণ ইউজারের হাতে থাকে এই সিস্টেমে।

আর খুব সহজ করতে বলতে গেলে, ধরুন আপনি এক কাপ চা বানাবেন। ক্লাউড কোম্পানি আপনাকে চা-পাতা, দুধ এবং চিনি দিবে। সেসব ক্লাউড থেকে ভাড়া করে আপনি নিজের মত করে চা বানাতে পারবেন। গাড় লিকার, হালকা লিকার যেমন খুশি। ক্লাউড কোম্পানির কাজ হবে আপনাকে শুধু উপাদান ভাড়া দেয়া। এর বাইরে কিভাবে বানাবেন, কতটুকু আগুন দিবেন, পানি কতটুকু গরম হবে সেসব নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে।

PaaS: Platform-as-a-Service: এতে প্লাটফর্ম ভাড়া দেয়া হয়। যেমনঃ অপারেটিং সিস্টেম, ডাটাবেজ কিংবা কোনো সার্ভার বা মনিটরিং সিস্টেম। ইনফ্রাস্ট্রাকচার নেয়ার পর হয়ত ইউজার দেখল তার কাজের জন্য কিছু বাড়তি এপ্লিকেশন বা প্লাটফর্ম লাগবে। তখন চাইলে সেটা ইউজার নিজেও মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তৈরি করতে পারে কিংবা রেডিমেড ক্লাউড থেকে প্রয়োজনীয় সিস্টেম, ডাটাবেজ কিংবা এপ্লিকেশান ব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে একটা সমস্যা হল, উক্ত সিস্টেম, ডাটাবেজ কিংবা এপ্লিকেশান এর নিয়ন্ত্রণ ইউজারের থাকবে না যেটা শুধু ইনফ্রাস্ট্রাকচার এ ছিল।

আগের চা এর উদাহরণ টা দিয়ে বলতে গেলে এই পর্যায়ে ক্লাউড কোম্পানি আপনাকে চা বানানোর জন্য রেডিমেড গরম পানি কিংবা আরো রেডিমেড চাইলে লিকার ও দিয়ে দিবে। আপনার কাজ হবে দুধ, চিনি মিক্স করে কাপে ঢালা। এক্ষেত্রে আপনি নিজের ইচ্ছেমত পানির তাপমাত্রা বা লিকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আপনাকে যেটা দেয়া হবে সেটা দিয়েই চা বানাতে হবে।

SaaS: Software-as-a-Service: এটা হচ্ছে ক্লাউডে চলা কোনো সফটওয়ার যেটা ইউজাররা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন তাদের মোবাইল ফোন কিংবা পিসির সাহায্যে। এদের এক কথায় ওয়েব সার্ভিস ও বলা যায়। এখানে ইউজারকে উক্ত সফটওয়্যার নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয়না। যেমন, মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫।

চা এর উদাহরণটা ই আবার দেই। এই পর্যায়ে আপনি ক্লাউড কোম্পানি থেকে রেস্টুরেন্ট সুবিধা পাবেন। আপনাকে কিছুই করা লাগবেনা। আপনি যেমন চা চান সেটাই ক্লাউড কোম্পানি আপনাকে দিবে। সেটা র-টি, মিল্ক-টি, ব্ল্যাক-টি, কোল্ড-টি, আসাম-টি যা ই হোক না কেন। এখানে আপনার কাজ শুধু আরাম করে খাওয়া। কিভাবে চা বানাতে হবে, বানানোর পর পরিবেশন করতে হবে কিছু নিয়েই আর আপনার মাথাব্যাথা নাই। এই মাথাব্যাথা রেস্টুরেন্ট এর বা ক্লাউড কোম্পানির।

ক্লাউড স্টোরেজ কি?
ক্লাউড স্টোরেজ হল ভার্চুয়ালি ডাটা সংরক্ষণের একটি উপায়। একসময় আমরা দরকারি ডাটা পেন ড্রাইভ বা হার্ডডিস্ক এ সরংক্ষণ করে রাখতাম।সেসবের ই উন্নত এবং সিকিউর রূপ হল ক্লাউড স্টোরেজ। ধরুণ খুব প্রয়োজনীয় বা ব্যক্তিগত কোনো ডাটা হার্ডডিস্ক বা পেন ড্রাইভে রাখলেন। কোনোভাবে হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ করল কিংবা পেন ড্রাইভ চুরি হয়ে গেল তখন আর কিছু করার থাকেনা। কিন্তু আপনি যদি ক্লাউড এ স্টোর করে রাখেন তাহলে এই ভয় টা আর থাকেনা।

আবার ধরুন হঠাত করে কোথাও কাউকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডাটা পাঠানো দরকার। কিন্তু ডাটা আছে বাসায় হার্ডডিস্ক বা পেন ড্রাইভে। কি করবেন তখন? আপনার সেই ডাটা যদি ক্লাউডে স্টোর করা থাকে আপনি যে কোনো জায়গা থেকে সেটা একসেস করে কাজ করতে পারবেন। আপনাকে সারাক্ষণ স্টোরেজ একসেসরিজ নিয়ে চলাফেরা করতে হবেনা।

অনেকেই গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স কিংবা মাইক্রোসফট এর ওয়ানড্রাইভ ,কিংবা এপল এর আইক্লাউড ব্যবহার করছেন। এখানে একাউন্ট খুললেই আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু স্পেস দেয়া হবে। পরে চাইলে আপনি আরো বাড়তি স্পেস ও কিনে ব্যবহার করতে পারেন। যারা এখন ও করেন না তারাও ব্যবহার শুরু করতে পারেন। একবার শুরু করলেই দেখবেন ফেঁসে গেছেন। এসব ছাড়া আর চলছেই না এমন মনে হবে।

অনেক নাম করা কোম্পানি আছে যারা ক্লাউড এর এই সেবাগুলো দিয়ে থাকে অনেক কম খরচেই। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ

ক্লাউড এর অসুবিধাঃ 
আচ্ছা এতক্ষণ তো ক্লাউড এর গুণগান এ করলাম। But Everything has some merits and demerits. এটা তো আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি। সেই সূত্রে ক্লাউড এর ও কিছু সমস্যা আছে।

♦ ক্লাউড এর একটা বড় সমস্যা হল সিকিউরিটি এবং প্রাইভেসি সমস্যা। যেমন, আপনি যে কোম্পানির ক্লাউডে ডাটা রাখলেন তারা যে আপনার ডাটা দিয়ে কিছু করছেনা তার কোনো গ্যারান্টি নাই। কিছু কনফিডেনশিয়াল সেক্টর আছে যেমন, প্রতিরক্ষা সেক্টর। তারা ক্লাউড ব্যবহার করলে তাদের জন্য সুবিধা থেকে অসুবিধা বেশি। প্রথমত তারা তাদের ডাটার সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে চায়। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন এনক্রিপশান টেকনিক ব্যবহার করতে পারে সিকিউরিটি ইস্যু নিশ্চিত করতে। কিন্তু এরপর ও কথা থাকে। তাদের ডাটা থেকে ছোট একটা অংশ কিংবা একটা সিঙ্গেল ইনফরমেশান দরকার হলে তাদেরকে পুরো ডাটাটাই আগে ডিক্রিপ্ট করতে হবে। এবং একটা ছোট অংশের জন্য পুরো ডাটাসেট ডিক্রিপ্ট করার পদ্ধতিগুলো যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমন ব্যয়বহুল ও।

♦ আরো কিছু সমস্যা আছে যেমন, ইন্টারনেট দিয়েই যেহেতু এই পুরো সিস্টেমের সাথে কানেক্ট থাকতে হয় তো ইন্টারনেটে বলতে গেলে কোনো কিছুই ১০০% সিকিউর না। তথ্য ফাঁস কিংবা করাপ্ট হবার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়।

♦ আবার কোনো কারনে ইন্টারনেট কানেকশান না থাকলে বা খুব ধীরগতির হলে ক্লাউডে কানেক্টেড থাকাও সম্ভব নয়। ক্লাউড ব্যবহারের আগে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট কানেকশান নিশ্চিত করতে হবে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর এইসব ইস্যু নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। হয়ত একসময় গবেষকরা সফল হবেন। ক্লাউড কোম্পানিগুলোর কাছেও আমাদের সিকিউরিটি পুরোপুরি নিশ্চিত হবে এবং ব্যবহার ও আরো সহজ হবে।

ক্লাউড এর ভবিষ্যৎঃ
ক্লাউড বিশেষজ্ঞরা ক্লাউড কম্পিউটিং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কিছু বলেন। কিছু উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যৎবাণী ই আমরা তুলে ধরবঃ

“ট্রেডিশনাল ডাটা সার্ভিস এবং ট্রেডিশনাল প্রযুক্তি সারভিসগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নিজের কোম্পানির জন্য ডাটা সেন্টার তৈরি, যন্ত্রপাতি কেনা কিংবা বিভিন্ন সফটওয়্যার ইন্সটলেশান এসব আমরা ভুলে যাব।এই সবগুলো একটি ইকোসিস্টেমে পড়ে যাবে এবং এই ইকোসিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করবে ক্লাউড।“

করোনা নিয়ে ভুল ধারণা ঠেকাবে ফেসবুক

–David Hartley, Virtual CIO & Principal, Technology Advisory Services for UHYLLP

“ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে বিশ্বে এক অসীম যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। ১০/১৫ বছরের মাঝেই মানুষ রাউটার, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এসব নিয়ে আর কথা বলবে না।“

–Marcus Vlahovic, Founder & CEO of Sustainabody

“১০/১৫ বছরের মাঝেই ৫০% ছোট কোম্পানি তাদের কোম্পানির ওয়ার্কস্টেশান এর জন্য আলাদা কম্পিউটার টাওয়ার, সার্ভার কেনার পরিবর্তে সহজভাবে একটি মনিটর, মাউস, কীবোর্ড এবং এসব নিয়ন্ত্রণ এর জন্য একটি থিন ক্লায়েন্ট কিনবে। বাকি কাজ ক্লাউড সরবরাহকারী কোম্পানিই করবে। এমন কি কোনো সফটওয়ার আপডেট নিয়ে ও ভাবা লাগবেনা।“

–Mike Smith, Founder of AeroComInc.com

“হিস্টোরি চক্রাকারে ঘুরে আসে। একসময় বড় বড় মেইনফ্রেম এবং কেন্দ্রীয় কম্পিউটারগুলো প্রতিস্থাপিত হয়েছিল শক্তিশালী দূরবর্তী ব্যক্তিগত কম্পিউটার দ্বারা। এবং এই শতকের প্রথম দিকে আমরা আবার ক্লাউড এর মাধ্যমে ফিরে গেছি কেন্দ্রীয় কম্পিউটার ব্যবস্থায়। এর পরবর্তী পদক্ষেপ হয়ত হবে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং নিউরাল ইন্টিগ্রেশান এর মাধ্যমে যন্ত্র এবং ব্রেইন কে সংযুক্ত করে দেয়া।“

–Jeff Schilling, CSO of Armor

ক্লাউড কম্পিউটিং এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে আজকের মত বিদায়।

সুত্রঃ বিজ্ঞান বাংলা

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »