বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি দেখা দেয়ায় প্রায় দুই লাখ প্রবাসী কর্মী দেশে ফেরত আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত করোনা ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত সচিব খলিলুর রহমান। তিনি জানান, ফেরত আসা প্রবাসীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতার পাশাপাশি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১২তম বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অতিরিক্ত সচিব খলিলুর রহমান করোনা মহামারিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা প্রদানের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন ও এই মহামারিকালে বাংলাদেশে পক্ষ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেসব সাহায্য করা হয়েছে এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশ যেসব সাহায্য পেয়েছে তা পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বৈঠকে উপস্থাপন করেন।

বৈঠকে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিটি মিশনে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট নির্বাচন করে অনলাইন ডাক্তারস পুল তৈরিপূর্বক সার্বক্ষণিকভাবে টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি দেখা দেয়ায় প্রায় ২ লাখ প্রবাসী কর্মী দেশে ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতার পাশাপাশি কোভিড -১১ মোকাবিলায় সার্ককে কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত বাংলাদেশে এভিগান ট্যাবলেট ব্যবহারের অনুমোদন না থাকলে বিদেশ থেকে অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত ১২ হাজার এভিগান ট্যাবলেট কী প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হবে তা জানতে চান।

জবাবে সচিব বলেন, জাপান সরকার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এভিগান ট্যাবলেট পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের জন্য দিয়েছে। এটি শুধুমাত্র কুর্মিটোলা হাসপাতালে ব্যবহার করা হবে।

কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার সাথে সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মহামারি মোকাবেলায় জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করা একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি পৃথক ‘করোনা ইউনিট খোলা হয়েছে। এছাড়া করোনার কারণে বিদেশে আটকে পড়াদের দেশে ফেরত আনা এবং দেশে আটকে পড়া বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা কৱে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবিলার জন্য মালদ্বীপ ও যুক্তরাজ্যে বেশ কিছু মেডিকেল সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে এবং নিউইয়র্কের সিটি মেয়রকেও কিছু উপহার সামগ্রী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে একটি ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে কমিটিতে তুলে ধরেন এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

রোমানিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী রোমানিয়ায় পুনরায় দূতাবাস চালু এবং সেখানে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। রোমানিয়ার সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং এই দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন তিনি। তিনি সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটির দিক-নিদের্শনা ও সহযোগিত কামনা করেন।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা অর্জনের আগেই জাপানের প্রতি মুগ্ধ ছিলেন বিধায় জাপানের পতাকার আদলেই বাংলাদেশের পতাকা তৈরিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। জাপানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। তিনি জাপানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে জাপান সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে আলাপ করে জাপান সম্পর্কে আরাও বিস্তারিত ধারণা গ্রহণের অনুরোধ করেন। একই সাথে রোমানিয়ায় বন্ধ হওয়া দূতাবাসটি চালু করায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তাছাড়া ভবিষ্যতে কমিটিতে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের কর্মপরিকল্পনা সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন। তারা শুধু নিয়োগপ্রাপ্ত দেশে গিয়ে কী কী করবেন তা জানাবেন। জাপান ও রোমানিয়ায় নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের তিনি কমিটির পক্ষ হতে অভিনন্দন জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য এ কে আব্দুল মোমেন জাপানের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব গ্রহণের আগে জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান প্রকল্পগুলো সরজমিনে পরিদর্শনের পরামর্শ দেন।

মন্ত্রী নিউইয়র্ক দূতাবাসে দায়িত্বপ্রাপ্ত গণসংযোগ কর্মকর্তাকে এক বছরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতিসংঘের কর্মকাণ্ড এবং সেখানে বাংলাদেশের ভূমিকা সম্পর্কে ব্রিফিংয়ের জন্য বছরে একবার সংসদীয় কমিটিতে আমন্ত্রণ জানানোর পরামর্শ দেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »