স্টাফ রিপোর্টার »

ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে। অনুগ্রহ লাভের অন্যতম মাধ্যম আল্লাহর জিকির। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা এ ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।’ (সুরা রাদ : আয়াত ২৮)

আল্লাহ তাআলা যে বান্দার প্রতি অনুগ্রহ করেন সে বান্দা দুনিয়ার সব কাজে প্রশান্তি লাভ করে। আবার ইবাদত-বন্দেগিতে অলসতা ও অবহেলা আসে না। সহজে বান্দাকে প্ররোচনা দিয়ে অন্তর কুলষিত করতে পারে না শয়তান।

প্রশান্ত অন্তর ও আল্লাহর রহমত লাভে জিকিরের বিকল্প নেই। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের প্রশান্ত আত্মার অধিকারী হতে তার জিকিরের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আর আল্লাহর অনুগ্রহ লাভকারী ও প্রশান্ত আত্মার অধিকারীরাই লাভ করবে সুনিশ্চিত জান্নাত। মহান আল্লাহ সে ঘোষণা দিয়ে বলেন-
‘হে প্রশান্ত মন, তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।’ (সুরা ফাজর : আয়াত ২৭-৩০)

সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহ ও সুনিশ্চিত জান্নাত লাভে জিকিরের বিকল্প নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য জিকিরের ফজিলত বর্ণনা করেছেন। যাতে উম্মতে মুহাম্মাদি জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা ও হজরত আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোনো মানুষ একত্রিত হয়ে আল্লাহ জিকির করতে বসে নিশ্চয় আল্লাহর ফেরেশতাগণ তাদের ঘিরে রাখেন। তাঁর (আল্লাহর) রহমত দ্বারা তাদের (জিকিরকারীদের) ঢেকে দেন এবং তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হয়। অধিকন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর নিকটস্থ ফেরেশতাদের সম্মুখে তাদের (জিকিরকারীদের) স্মরণ করেন। (মুসলিম)

জিকির শুধুমাত্র তাসবিহ-তাহলিল বা আল্লাহ-আল্লাহ তাসবিহ পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রত্যেক কাজে আল্লাহর নির্দেশ পালন করাও জিকির। যেমন- কুরআন তেলাওয়াত করা, কুরআন-হাদিস বুঝে পড়া, এবং অন্যকে পড়ানো, যথাযথভাবে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ যে কোনো ভালো কাজই আল্লাহর জিকির। তবে তা হতে হবে শুধু আল্লাহর জন্য।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান আল্লাহকে স্মরণ করে কাজ করা। আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা। যেভাবে চিন্তা-গবেষণা করলে অন্তরে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। গোনাহ থেকে ফিরে থাকা যায়। সেসব কাজও জিকিরের অন্তর্ভূক্ত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত তাসবিহ-তাহলিল এবং সব বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে তার নৈকট্য অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »