১৫ বছরের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়বে ১১ গুণ

স্টাফ রিপোর্ট

বিশ্বের সব দেশই কমবেশি কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছে, সচেতনতা সৃষ্টি করছে। এমন বাস্তবতায় পেট্রল বা ডিজেল নয়, বরং বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের (ইভি) প্রতি আগ্রহী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। দেশগুলোও চাইছে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এসব কারণে ১৫ বছরের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিষয়ে বিশ্বের মানুষের আগ্রহ বাড়বে ১১ গুণ। খবর কিয়োদো নিউজ।

জাপানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফুজি কেইজাই কো তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানায়, ২০৩৫ সাল নাগাদ পুরোপুরি বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বিশ্বব্যাপী বাজার দাঁড়াবে ২ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার ইউনিট। সে সময় পেট্রল-বৈদ্যুতিক হাইব্রিড গাড়ির বাজার হবে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার ইউনিট এবং প্লাগ ইন হাইব্রিড গাড়ির বাজার দাঁড়াবে ১ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ইউনিট।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে যে, দীর্ঘমেয়াদে বৈদ্যুতিক গাড়িই প্রধান বাহন হয়ে উঠবে। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটির দাম কমবে এবং চার্জ দেয়ার ব্যবস্থাসহ আরো নতুন অবকাঠামো তৈরি হবে। ২০২২ সালের শুরু থেকেই এ গাড়ির চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলায় নানা পদক্ষেপ নেয়ার কারণে গাড়ি নির্মাণ শিল্পে কৌশলগত পরিবর্তন সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায়, ২০৩৫ সালের পর থেকে নতুন করে যেন হাইব্রিডসহ অভ্যন্তরীণ কম্বাসশন ইঞ্জিনচালিত গাড়ি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বছরজুড়ে এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়ন শুরু করেছে জাপান, চীনসহ অন্যান্য বড় বাজার।

ইউরোপ ও চীনের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি অনেক বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একটি পূর্বাভাস বলছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বের ৭৪ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার হবে এ দুটি অঞ্চল। ২০২০ সাল থেকে হিসাব করলে আগামী ১৫ বছরে চীনে ইভি বিক্রি ৯ দশমিক ২ গুণ বেড়ে ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ইউনিটে দাঁড়াবে। চীন অন্য দেশগুলোর তুলনায় সাশ্রয়ী দামের গাড়ি তৈরি ও বাজারজাত করবে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।

অন্যদিকে ২০২০-এর তুলনায় ইউরোপে ইভি বিক্রি ১০ দশমিক ৬ গুণ বেড়ে ৮৫ লাখ ১০ হাজার ইউনিটে দাঁড়াবে। কারণ স্থানীয় গাড়ি নির্মাতারা নতুন নতুন প্রস্তাব ও সুযোগ দেবে ক্রেতাদের জন্য। সুইডেনভিত্তিক ভলভো কারস গ্রুপ জানিয়েছে, ২০৩০ সালের পর তারা কেবল বৈদ্যুতিক গাড়িই বিক্রি করবে। পাশাপাশি জাগুয়ার ও ল্যান্ড রোভারও পরিকল্পনা করছে যে, ২০২৫ সালের পর কেবল বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়িই বিক্রি করা হবে।

এ বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে টয়োটা মোটর করপোরেশন। তারা বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ব্যাটারিতে তারা ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। পাশাপাশি ব্যাটারির উৎপাদনও বাড়ানো হবে।

ফলে এটা পরিষ্কার যে, ২০৩৫ সালের পর বিশ্বে জ্বালানিনির্ভর নয়, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির ব্যবহার বাড়বে। এতে কার্বন নিঃসরণ যেমন কমে আসবে তেমনি পরিবেশেও এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *