১৩ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করবে আমেরিকান এয়ারলাইনস

স্টাফ রিপোর্ট

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কা কোনোভাবেই যেন সামলে উঠতে পারছে না বৈশ্বিক এয়ারলাইনসগুলো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনসগুলোর পিছু যেন ছাড়ছে না মহামারীর আর্থিক ক্ষতির প্রভাব। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা খাতটি থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কথা ভাবছে আমেরিকান এয়ারলাইনস। মহামারীর বর্তমান অবস্থার উন্নতি না হলে এবং সরকারের সহযোগিতা যদি আর বাড়ানো না হয়, তাহলে ১৩ হাজারের মতো কর্মী ছাঁটাই করতে পারে তারা। সম্প্রতি কর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে এয়ারলাইনসটি। খবর এএফপি।

কর্মীদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে আমেরিকান এয়ারলাইনসের শীর্ষ নির্বাহীরা বলেছেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ফ্লাইটের সংখ্যা কমপক্ষে ৪৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। এছাড়া এই সামারেও এ খাতে পূর্ণসক্ষমতা ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছেন না তারা। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে শ্লথগতি বিদ্যমান, সেটির ফলে ভ্রমণ সংখ্যা যেভাবে বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, সেটি হয়তো সম্ভব হবে না। উপরন্তু, খাতটি আরো বেশি নিমজ্জিত অবস্থায় পড়তে পারে।

চিঠিতে আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডগ পারকার ও প্রেসিডেন্ট রবার্ট আইজম বলেন, অবশ্যই আমরা এই পরিস্থিতি আশা করিনি। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থানের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সেটি প্রশমনে সবকিছুই করা হবে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ভ্যাকসিন যত দ্রুত বিতরণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, আদতে তা হয়নি। উল্টো আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে। ফলে যাত্রীদের কভিড-১৯ টেস্টে নেগেটিভ সনদ প্রয়োজন হচ্ছে, যা ভ্রমণ সংখ্যা কমিয়ে আনছে।

আমেরিকান এয়ারলাইনসই যে কেবল নতুন করে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ভাবছে, সেটি নয়। এর আগে গত সপ্তাহে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা জানিয়ে প্রায় একই ধরনের চিঠি পাঠিয়েছে।

বিমান খাতে ফেডারেল সরকারের দেয়া বর্তমান সহযোগিতা আগামী ১ এপ্রিলে শেষ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এই খাতের কর্মী ও ইউনিয়ন নেতাদের নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরেক দফা সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করা যেতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে আমেরিকান এয়ারলাইনস। যদিও সহযোগিতার বিষয়ে এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মার্কিন অর্থনীতি টেনে তুলতে ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার রিলিফ প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *