স্বর্ণের গড় দাম আউন্সপ্রতি ১৩০০ ডলারের নিচে থাকবে

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাসহ নানা কারণে গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন শুরু হয়। চলতি বছর এসে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ এ দরপতন আরো ত্বরান্বিত করে। সব মিলিয়ে মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্বর্ণের অবস্থান বিনিয়োগকারীদের সুখবর দিতে পারেনি। তবে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে স্বর্ণের দাম কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে।

এতেও আশা দেখছে না মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান। বছর শেষে স্বর্ণের গড় দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩০০ ডলারের অনেক নিচে থাকতে পারে। আগামী বছর আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির গড় দাম বাড়লেও তা আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ২০২০ সালে ঘুরে দাঁড়াবে স্বর্ণের বাজার। এ সময় বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে ভরসার জায়গা হতে পারে স্বর্ণ। খবর কিটকো নিউজ ও সিএনবিসি।

জেপি মরগানের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিক উত্থান-পতনের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণের বাজার পরিস্থিতি। এর মধ্যে ২০১৬ সালে এক দফা বাড়লেও ২০১৭ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম পড়তে শুরু করে। এ সময় উত্তর কোরিয়ায় পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা স্বর্ণের দরপতনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

বছরজুড়েই মূল্যবান ধাতুটির বাজারে মন্দাভাব বজায় ছিল। চলতি বছরে এসে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মুদ্রাবাজারে চাঙ্গা হতে শুরু করে মার্কিন ডলার। ফলে বিনিয়োগকারীরাও ডলারের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। বিপরীতে বিনিয়োগ কমার সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণের দামও কমতে শুরু করে। তবে বছরের শেষ ভাগে ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় স্বর্ণের বাজার কিছুটা গতি ফিরে পায়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি স্বর্ণের বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এখনো রয়ে গেছে।

চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতিসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে জেপি মরগান পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০১৮ সাল শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ২৫৭ ডলারে।

আগামী বছরের প্রথমার্ধেও (জানুয়ারি-জুন) মূল্যবান ধাতুটির দামে তুলনামূলক মন্দাভাব বজায় থাকতে পারে। তবে ২০১৯ সালে স্বর্ণের গড় দাম কিছুটা বেড়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ২৯৪ ডলারে স্থির হতে পারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মূল্যবান ধাতুটির গড় দাম বাড়তে পারে আউন্সে ৩৭ ডলার। সে হিসাবে, চলতি ও আগামী বছর স্বর্ণের গড় দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে থাকছে।

২০২০ সালে গিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে স্বর্ণের বাজার। জেপি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের গড় দাম ১ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় স্বর্ণের গড় দাম বাড়তে পারে আউন্সে ১৬৪ ডলার।

এ বিষয়ে জেপি মরগানের মেটাল রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা বলেন, চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফলে মুদ্রাবাজারে চীনা ইউয়ান, জাপানি ইয়েন, ভারতীয় রুপি, ব্রিটিশ পাউন্ড, আর্জেন্টাইন পেসো, তুর্কি লিরাসহ অধিকাংশ মুদ্রাই মান হারিয়েছে। বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলার। এ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের তুলনায় ডলারের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। এ কারণে চলতি ও আগামী বছর স্বর্ণের গড় দাম কম থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে ধীরে ধীরে বাড়ার কারণে ২০২০ সাল নাগাদ মূল্যবান ধাতুটির গড় দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার-সংক্রান্ত সম্ভাব্য নীতিমালা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি-প্রকৃতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের সামনে আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.