স্কয়ার ফার্মার নগদ অর্থ ৪ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার

যেকোনো ব্যবসার মূল পুঁজি অর্থ। এ অর্থের সংস্থান হয় মূলত উদ্যোক্তার মূলধন, বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও ব্যাংকঋণের মাধ্যমে। এছাড়া কোম্পানির ব্যবসা থেকেও বছর বছর নগদ অর্থ আসে। কভিডের সময়ে ব্যবসায় নগদ অর্থের হাহাকার ছিল লক্ষণীয়। এর মধ্যেও দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে নগদ অর্থ থাকার তথ্য উঠে এসেছে। এসব কোম্পানির মধ্যে শীর্ষ ১০টির কাছে এখন মোট নগদ অর্থ রয়েছে ১৯ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ রয়েছে যথাক্রমে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পদ্মা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কাছে।

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটির কাছে ৪ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকার নগদ অর্থ ছিল। বেশ কয়েক বছর ধরেই স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের নগদ অর্থের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে কোম্পানিটির নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে এর পরিমাণ বেড়ে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এটি আরো বেড়ে ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ১ হাজার ৬৯৮ কোটি, ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ২ হাজার ৭০০ কোটি এবং ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

জানতে চাইলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের হিসাব ও অর্থ বিভাগের প্রধান মো. কবীর রেজা বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে আমাদের কিছু ঋণ ছিল। সেগুলো পরিশোধ করার পর বেশকিছু অর্থ উদ্বৃত্ত থেকে যায়। এর মধ্যে আবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার কারণে সাবসিডিয়ারি ও অঙ্গপ্রতিষ্ঠানকে দেয়া অর্থ স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে ফিরিয়ে আনা হয়। এর সঙ্গে মুনাফা থেকে আসা অর্থও যোগ হলো। সব মিলিয়ে আমাদের হাতে বেশ বড় অংকের নগদ অর্থ চলে আসে। প্রতি বছরই এর পরিমাণ বাড়ছে। এসব নগদ অর্থ আমরা এফডিআর রাখার পাশাপাশি বন্ড ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছি। সেখান থেকেও রিটার্ন আসছে। পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকায় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবসা সম্প্রসারণে যখনই প্রয়োজন হয়েছে আমরা বিনিয়োগ করতে পেরেছি। বর্তমানে কোম্পানির কাছে যে নগদ অর্থ রয়েছে সেটি দিয়ে ভবিষ্যতে বড় আকারের বিনিয়োগে কাজে লাগানো যেতে পারে। কিংবা বিনিয়োগকারীদের বড় অংকের লভ্যাংশ হিসেবেও দেয়া যেতে পারে।

স্কয়ার ফার্মার পরেই সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত শীর্ষ জ্বালানি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানির কাছে। এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকায়। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির  কাছে ৩ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা নগদ অর্থ ছিল।

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, জ্বালানি একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির কারণে জ্বালানির ব্যবহারও বাড়ছে। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বছরের পর বছর রাষ্ট্র ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সুশাসন জরুরি। প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি খাতের ওপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে পদ্মা অয়েলের মতো কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ আস্থা ধরে রাখতে পেরেছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কাছে এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে ২ হাজার ৪২১ কোটি টাকা নগদ অর্থ ছিল। গত বছরের ৩০ জুন সময়ে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। যমুনা অয়েল কোম্পানির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৮ কোটি টাকায়। যেখানে গত বছরের ৩০ জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশের কাছে এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে ১ হাজার ৪১০ কোটি টাকার নগদ অর্থ রয়েছে। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৯৫৫ কোটি টাকা। দেশের ইস্পাত খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম স্টীলসের কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে ১ হাজার ৪০১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যেখানে গত বছরের ৩০ জুন সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির নগদ অর্থের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে ১ হাজার ১১১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। নয় মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির নগদ অর্থের পরিমাণ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ কোম্পানি গ্রামীণফোনের কাছে এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে ৬৬০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ছিল। এর আগে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২৭৪ কোটি টাকা। দেশের আরেক টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটার কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে ৫৭০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যেখানে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৪৯১ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) কাছে এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে ৫৫৪ কোটি টাকার নগদ অর্থ ছিল। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৫৬ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির নগদ অর্থের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.