সোনালী লাইফের শেয়ার দাম বাড়ল ৪৪১ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্ট

পুঁজিবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া জীবন বীমা খাতের কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দাম একদিনেই বেড়েছে ৪৪১ শতাংশ। লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে সোমবার (১২ জুলাই) কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ার ক্ষেত্রে কোনো সার্কিট ব্রেকার না থাকায় এই দাম বেড়েছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের লেনদেন গত ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের নতুন নিয়মে প্রথম কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে আসা সোনালী লাইফের আইপিওতে ১০ হাজার টাকার আবেদন করা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১৭টি শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন। একইভাবে প্রবাসী (এনআরবি) বিনিয়োগকারীরা ৩৩টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা ২২টি করে শেয়ার পেয়েছেন।

রেনডম পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের এভাবে শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ বিনিয়োগকারী ১৮টি এবং কিছু প্রবাসী বিনিয়োগকারী ৩৪টি করে শেয়ার পান।

এছাড়া যারা ২০ হাজার টাকার আবেদন করেছেন তারা ৩৪টি শেয়ার, যারা ৩০ হাজার টাকার আবেদন করেছেন তারা ৫১টি, যারা ৪০ হাজার টাকার আবেদন করেছেন তারা ৬৮টি এবং যারা ৫০ হাজার টাকার আবেদন করেছেন তারা ৮৫টি শেয়ার পেয়েছেন।

একইভাবে যেসব প্রবাসী বিনিয়োগকারী ২০ হাজার টাকা আবেদন করেছে তারা ৬৬টি শেয়ার, যারা ৩০ হাজার টাকার আবেদন করেছে তারা ৯৯টি, যারা ৪০ হাজার টাকার আবেদন করেছে তারা ১৩২টি এবং যারা ৫০ হাজার টাকার আবেদন করেছে তারা ১৬৫টি শেয়ার পেয়েছেন।

অপরদিকে যেসব ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী ২০ হাজার টাকা আবেদন করেছেন তারা ৪৪টি, যারা ৩০ হাজার টাকার আবেদন করেছেন তারা ৬৬টি, যারা ৪০ হাজার টাকার আবেদন করেছেন তারা ৮৮টি এবং যারা ৫০ হাজার টাকার আবেদন করেছেন তারা ১১০টি শেয়ার পেয়েছেন।

আইপিওতে বিনিয়োগকারীরা সীমিত সংখ্যক শেয়ার পাওয়ার কারণে লেনদেন শুরুর পর সোমবারের আগে প্রতিকার্যদিবসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম দিনের সর্বোচ্চ পরিমাণ বা ১০ শতাংশ করে বাড়ে।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে ঘোষণা আসে সোনালী লাইফ ২০২০ সালের সমাপ্ত বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে। সেই সঙ্গে ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসের জন্য ২ শতাংশ নগদ অন্তবর্তী লভ্যাংশ দেবে।

এতে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর আগেই ১ হাজার ৫০ টাকা করে কোম্পানিটির শেয়ার কেনার প্রস্তাব আসে। যদিও ওই দাম পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তবে আগের কার্যদিবস শেষে ১৬ টাকায় দাঁড়ানো কোম্পানিটির শেয়ারের শুরুর দাম ছিল ৬০ টাকা। কয়েক দফা বেড়ে দিনের লেনদেন শেষে তা ৮৬ টাকা ৫০ পয়সায় থিতু হয়। এতে একদিনে কোম্পানিটির ১০ টাকা মূল্যের শেয়ার দাম বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা ৫০ পয়সা। যা শতাংশ হিসেবে বেড়েছে ৪৪০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

শেয়ারের দামে বড় উত্থান হওয়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ার মোটা অঙ্কে লেনদেন হয়েছে। দিনভর ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫১ কোটি ৫২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার। আর ৮৫ হাজার ১০৭ বারে ৭০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে অনুমোদন নিয়ে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ১ কোটি ৯০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এজন্য প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০ টাকা। আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা এই অর্থ কোম্পানিটি সরকারি ট্রেজারি বন্ড, ফিক্সড ডিপোজিট, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *