‘সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন নারী-পুরুষ সমতা’

স্টাফ রিপোর্ট

নারী অধিকার তখনই নিশ্চিত হবে যখন সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করছেনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এবং নারী পক্ষের কার্যনির্বাহী সদস্য ফেরদৌস আজিম। ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১’ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (০৪ র্মাচ ২০২১) একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত এক ওয়বিনারে এ কথা বলনে তিনি। ‘নেতৃত্বে দূর্জয় নারী ’র্শীষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী সকল প্রজন্মের নারী নেত্রীদের অর্জন উদযাপনে‘ উইমনে ইন লিডারশিপ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে আয়োজন করে একশনএইড বাংলাদশে ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, “পাঠ্য পুস্তকে নারী অধিকারের বিষয়টি বরাবরই হোচট খায়। তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরনে, পাঠ্যপুস্তক থেকে নারী লেখকদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি। এ সময় তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের সকল ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করে সামাজিক পরিবর্তন আনার আহবান জানান।

ওয়েবিনারে উপস্থিত বক্তারা প্রান্তিক ও জাতীয় পর্যাযে নারী নেত্রীদের সাহসী পদক্ষেপ, সফলতা এবং পিছিয়ে থাকার কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করনে।  বাংলাদেশের প্রবীণ নারী নেত্রীরা তাঁদের দেখা পাঁচ দশকে নারী আন্দোলন, শিক্ষা ও ভূমি অধিকার সুরক্ষায় তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ওয়েবিনারে তরুণ নারী নেত্রীরাও ভবিষ্যৎবাংলাদেশ নারী নেতৃত্ব সর্ম্পকে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করনে।

এসময় মানবাধীকার কর্মী হোচেমিন ইসলাম বলেন, নারী আন্দোলনের কোথাও জেন্ডার বৈষম্য বিষয়টি প্রধান্য পায়না। এমনকি রূপান্তরীত নারীদের নিয়েও কোন পদক্ষেপ দেখা যায় না । পরিবর্তন ও মানবাধিকারের কথা মাথায় রেখে রূপান্তরীত মানুষদের মূল ধারায় অর্ন্তভূক্তি দরকার বলে মনে করনে এই মানবাধিকার র্কমী।

এছাড়াও ওয়বিনারে অংশগ্রহণ করেন সমাজকর্মী, নারীবাদী, পরিবেশবিদ এবং নিজেরা করি সংগঠনের পরিচালক খুশি কবির; সাংবাদিক, অধিকার কর্মী এবং গবেষক মুক্তাশ্রী চাকমা; দ্যা ইউ-এ-ই-বাংলাদশে ইনভস্টেমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইউবিকো) ব্যবস্থাপনা পরচিালক ড. এস এম আকবর; সমাজকর্মী নুরুল ইসলাম ভূইঞা; সমাজকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত; শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টটিউিটের প্রধান সমন্বয়ক ড. সামন্তলাল সেন; এবং নারী পক্ষের নির্বাহী পরিচালক শিরিন পারভীন হক।

বক্তারা এ সময় একশনএইড বাংলাদেশ-এর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, শ্রমিক অধিকার, জলবায়ু ন্যায্যতা, দুর্যোগকালীন সাড়া প্রদান ও যুব নারীদের স্বপ্নবাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী নেত্রীদের অর্জনসমূহকে সাধুবাদ জানান।

এ প্রসঙ্গে একশনএইড বাংলাদশে-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ’বাংলাদেশে নারী নেতৃত্ব অনেক পথ অতিক্রম করছে। কিন্তু তা সত্তেও নারীরা গতানুগতিক চিন্তা-চেতনা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি। যদিও সিদ্ধান্ত গ্রহনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন: রাজনীতি, ব্যবসা, কর্পোরেট , গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় এখনও খুবই সীমিত প্রবেশ গম্যতা তৈরি হয়েছে। তবে নারীরা এখনও অনকে জায়গায় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে বলেন ফারাহ কবির।

ওয়বেনিার শেষে প্রতি বছরের মত এবারও সামাজকি অবদান, সাহসী পদক্ষপে ও দৃঢ় সংকল্পের জন্য মোট চার জনকে ‘পঞ্চদশ নাসরীন স্মৃতি পদক- ২০২১’ প্রদান করা হয় । একশনএইড বাংলাদশে-এর প্রয়াত কান্ট্রি ডরিক্টের নাসরীন পারভীন হক-এর র্কমস্পৃহা, উদ্যম আর আর্দশকে এগিয়ে নিতেই প্রতিবছর এই পদক প্রদান করা হয়।

একশনএইড বিশ্বব্যাপী জেন্ডার বৈষম্য, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও বিভিন্ন সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে নারী নেতৃত্ব ব্কিাশে কাজ করে আসছে। এছাড়া সহযোগী সংগঠন ও সুশীল সমাজের মাধ্যমে নারীদের ভূমিকা, নারী-পুরুষ সম্মলিতিভাবে চিন্তাশক্তির রূপান্তর, মনোভাব ও বিশ্বাসের পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় একশনএইড বাংলাদেশ র্দীঘদিন ধরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এডভোকেসি করে আসছে।

যারা পেলেন নাসরীন স্মৃতিপদক!
এ বছর মোট চারটি ক্যাটাগরিতে ১৫তম ‘নাসরীন স্মৃতি পদক-২০২১ প্রদান করা হয়েছে। যৌন হয়রানী ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারী নেতৃত্ব¡, কৃষি ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা এবং কোভিড-১৯ যুদ্ধ মোকাবেলায় নারী নেতৃত্ব¡- এই চার বিষয়ে অবদান রাখার জন্য একশনএইড বাংলাদেশ প্রতি বছরের ন্যায় মোট চারজনের হাতে এ পদক তুলে দেয়।

কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতে আতংক ও ভয় ছড়িয়ে পড়লে কমিউনিটিকে সচেতন করেন গোবন্দিগঞ্জ জেলার গাইবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা রানী বেগম (৩৯)।সামাজিক ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিধি সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিজে মাস্ক তৈরি করে ২০০ জন দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিতরণ করাসহ নানাভাবে কমউিনিটিকে সহায়তা করনে তিনি।

২০১৪ সাল থেকে বাল্য বিয়ে ও যৌন হয়রানী বন্ধে বিভিন্নি প্লাটর্ফর্মের মাধ্যমে কাজ করছেন ঝালকাঠির জেলার নথুল্লাবাদ গ্রামের সোহানুর রহমান (২৫)। অন্যদিকে চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকার এইচএসসি শিক্ষার্থী সুস্মিতা সুলতানা স্বর্ণালী (১৯) স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় নারী নেতৃত্ব ও এডভোকেসির মাধ্যমে এলাকার মানুষদের অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

তাছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজলার হাছনা বেগম (৩৪) আধুনিক পদ্ধতিতে মুরগি পালন, সিআরএসএ, ইনপুট-আউটপুট, বাজারজাতকরণ কৌশল এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের উপর ভাল জ্ঞান লাভ করেন। পাশাপাশি সবজি চাষ, মৎস পালন, গাভীপালন ও দুধ উৎপাদনের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সামাজিক পরিবর্তন এবং উন্নয়নে তাদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই তানি এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

উল্লখ্যে, নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম কান্ডারী নাসরীন পারভীন হক স্মরণে ২০০৭ সাল থেকে ’নাসরীন স্মৃতি পদক’ প্রদান করে আসছে একশনএইড বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *