শেয়ারবাজার ধসের মধ্যেই

স্টাফ রিপোর্ট

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশে শেয়ারবাজারে এক প্রকার ধস নেমেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। ফলে বড় পতন হয়েছে সবকটি মূল্য সূচকের। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস সূচকের বড় দরপতন হলো।

এ দিন শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরু থেকেই ব্যাংক, বীমা, প্রকৌশল, বস্ত্র, ওষুধ, আর্থিক খাতসহ প্রতিটি খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমতে থকে। সেই সঙ্গে দরপতন হয় মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা।

এতে দিনভর ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৬টির। আর ৯১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৭৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। আগের দিন সূচকটি কমে ১৪২ পয়েন্ট। অর্থাৎ টানা দুই কার্যদিবসের বড় পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমলো ২৭০ পয়েন্ট।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৬৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল ৪ লাখ ৬৯

হাজার ৬৯ কোটি টাকা। বাজার মূলধন কমার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ কমেছে।

মূল্য সূচকের বড় পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৭৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪০ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার ৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৫৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইতে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- রবি, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, সামিট পাওয়ার, মীর আখতার হোসেন লিমিটেড, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার এবং আইএফআইসি ব্যাংক।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩৯৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭৬টির এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *