শেয়ারবাজারে বড় উত্থান ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দাপটে

স্টাফ রিপোর্ট

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২ মার্চ) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সূচকের এই বড় উত্থানে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।

এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের লাগাম টেনে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক যে নির্দেশনা জারি করেছে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় একের পর এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ে। সেইসঙ্গে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায় বেশিরভাগ ব্যাংক। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নগদ লভ্যাংশের হার ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে লভ্যাংশ ঘোষণায় নতুন নীতিমালা সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংরক্ষিত সম্পদ না রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঘাটতি সমন্বয়ে ডেফারেল সুবিধা ভোগ করছে, সেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ সম্পদ সংরক্ষণের পূর্বে কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে।

এতে আরও বলা হয়, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি রয়েছে, সেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা করবে না। এ ছাড়া যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) ১০ শতাংশের কম এবং শ্রেণীকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি রয়েছে, সেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নগদ লভ্যাংশের হার ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। এ বিষয়ে সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিএমবিএ বলেছে, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৭ টাকা আয় করেছে, সে ৩ দশমিক ৫০ টাকা লভ্যাংশ দিতে চায়, তা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক।

এতে আরও বলা হয়েছে, আমরা মনে করি, যদি কারও আয় থাকে, তার লভ্যাংশ দেয়ার সুযোগ থাকা দরকার। এরকম সাধারণ ঘোষণা দিয়ে লভ্যাংশ টেনে ধরলে বিনিয়োগকারী হতাশ হবে এবং পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে তাদের লভ্যাংশ দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হোক।

বিএমবিএ’র এই চিঠির প্রেক্ষিতেই শেয়ারবাজারে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে। তাতেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দাম বাড়তে শুরু করে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ২৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টিরই শেয়ার দাম বেড়েছে। বাকি ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে তালিকাভু্ক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর দাম বাড়ায় সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। ফলে প্রথম ১০ মিনিটের লেনদেনেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২৮ পয়েন্টে বেড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকা বড় হতে থাকে, সেইসঙ্গে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও বাড়ে।

এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে পতনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ৪২টি। আর ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫০৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৩৩ কোটি ৯৪ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৬১৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে লেনেদেন বেড়েছে ২১৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১০৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর ৯৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৬৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- রবি, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, সামিট পাওয়ার, জিবিবি পাওয়ার, ওরিয়ন ফার্মা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং লাফার্জহোলসিম।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩২৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৭টির এবং ৪৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *