বৈশ্বিক হাইড্রোজেনে ২০ শতাংশ বাজার ধরতে চায় রাশিয়া

স্টাফ রিপোর্টার

সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ুু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকছে অধিকাংশ দেশ। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে আবহাওয়ায় বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে জল ও বায়ুবিদ্যুৎ এবং হাইড্রোজেনের দিকে ঝুঁকছে অনেকে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে এবার নিজেদের প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। বিদ্যমান অবকাঠামো ও বৈদেশিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে সামনের দিনগুলোতে হাইড্রোজেনের বৈশ্বিক বাজারে নেতৃস্থানীয় অবস্থান দখলের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। ২০৩০ সালের মধ্যে হাইড্রোজেনের বৈশ্বিক বাজারের অন্তত ২০ শতাংশ শেয়ার নিজেদের আওতায় নিতে চায় ইউরেশিয়ার এ দেশ। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নিজেদের হাইড্রোজেন উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যও হাতে নিয়েছে দেশটি।

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ২০২১ সালে রাশিয়ার উৎপাদিত হাইড্রোজেনের মধ্যে ৩৪ লাখ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনে ও ২৭ লাখ টন পরিশোধনে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এটি বেড়ে যথাক্রমে ৩৮ লাখ ও ৩১ লাখ টনে পৌঁছাবে।

২০৩৫ সালের মধ্যে জাহাজীকরণসহ ২০ লাখ টন হাইড্রোজেন রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশটির। ২০৫০ সাল নাগাদ রফতানির পরিমাণ ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে পাঁচ কোটি টনে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাশিয়া। পাঁচ কোটি টন হাইড্রোজেন সাধারণত ১৬০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমপরিমাণ। বিশ্লেষকরা জানান, এ লক্ষ্য অনুযায়ী ইউরোপের বাজারে রাশিয়ার রফতানীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের জায়গা দখল করে নেবে হাইড্রোজেন।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্টিন বলেন, হাইড্রোজেন উৎপাদন খাত উন্নয়নের জন্য আগামী তিন বছরে ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয় করবে রাশিয়া। উৎপাদনের পাশাপাশি মজুদ, পরিবহনের জন্যও এসব অর্থ ব্যয় করা হবে।

মূলত পরমাণু ও নবায়নযোগ্য উৎস থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। তবে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হাইড্রোজেন উৎপাদনে দেশটির বিশাল আকারের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.