বৈশ্বিক তামা উৎপাদন প্রবৃদ্ধির ধারায়

স্টাফ রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা অনুপাতে তামার সরবরাহ ও মজুদ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তামার বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল কপার স্টাডি গ্রুপ (আইএসজি) কর্তৃক সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারীর ধাক্কায় দেশে দেশে তামা উৎপাদন খনিগুলোতে স্থবিরতা দেখা দেয়। কমতে থাকে উৎপাদন। তবে গত বছরের জুনে বিভিন্ন দেশে লকডাউন পরিস্থিতি শিথিল হওয়ার সঙ্গে তামা উৎপাদন সচল হতে শুরু করে। খনিগুলোতে কঠোর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি গ্রহণ করায় ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে উৎপাদন।

বৈশ্বিক তামা উৎপাদনে দ্বিতীয় পেরু। লাতিন আমেরিকার দেশটি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যবহারিক ধাতুটির উৎপাদন ৩ শতাংশ বাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে মার্চে উৎপাদন গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় উত্তোলন কমেছে ১০ শতাংশ।

বিশ্বের শীর্ষ তামা উত্তোলক দেশ চিলি। তামা খাত শক্তিশালী করতে দেশটি বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্প হাতে নেয়। ফলে চাঙ্গা হতে থাকে দেশটির উৎপাদন। তবে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এ সময় চিলিতে তামার উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমেছে।

এদিকে তামা উৎপাদনে বিশ্ববাজারে বড় হিস্যা রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার। করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে দেশটি উৎপাদন কর্মসূচি জোরদার করে। গ্র্যাসবার্গ খনিতে ভূগর্ভের উৎপাদন ক্রমে বাড়াতে থাকে দেশটি। ফলে বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির তামা উৎপাদন ৯১ শতাংশ বেড়ে যায়।

আইসিএসজি জানায়, কঙ্গো, মঙ্গোলিয়া, পানামা ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোতেও তামা উৎপাদনে লক্ষণীয় মাত্রায় প্রবৃদ্ধি এসেছে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে এসব দেশ নতুন বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এছাড়া খনি ও প্রকল্প সম্প্রসারণ কর্মসূচিও উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।

এদিকে বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত তামা উৎপাদনও বেড়েছে বলে জানায় আইসিএসজি। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে পরিশোধিত তামা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চ গ্রেডের তামার উৎপাদন ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং নিম্ন গ্রেডের তামা উৎপাদন ২ দশমিক ৩ বৃদ্ধি পায়।

এক্ষেত্রে চীনে পরিশোধিত তামা উৎপাদন বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ। এদিকে জলবায়ু দূষণ রোধে নতুন বিধিনিষেধ থাকায় ইলেকট্রোলিটিক উপায়ে তামা পরিশোধনে মনোযোগ বাড়িয়েছে চিলির ধাতু বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলো। ইলেকট্রোলিটিক উপায়ে দেশটির পরিশোধিত তামা উৎপাদন বেড়েছে ১৫ শতাংশ। ইলেকট্রোওয়াইনিং উপায়ে পরিশোধন ১৬ শতাংশ কমেছে। ফলে চিলির সব মিলিয়ে পরিশোধিত তামা ৬ শতাংশ কমেছে বলে জানায় আইসিএসজি।

অন্যদিকে আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় পরিশোধিত তামা উৎপাদন ১৬ শতাংশ ও জাম্বিয়ায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক তথ্য বলছে, ব্রাজিল, জাপান, মেক্সিকো রাশিয়া, স্পেন ও সুইডেনে পরিশোধিত তামা উৎপাদন কিছুটা কমেছে। মহামারীর প্রভাবে পরিশোধন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদনে এমন মন্দা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *