অফশোর প্রকল্প থেকে বায়ুবিদ্যুতের ৫৫% আসছে

স্টাফ রিপোর্টার

চলতি বছরের দ্বিতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ছে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প। কয়েক দশকের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলার অংশ হিসেবে এসব প্রকল্প গ্রহণ করছে বিভিন্ন দেশ। মার্কিন ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশনে এক প্রতিবেদনে এমনটা উঠে আসে।

বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩২০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ সংগ্রহ করা হতো। বর্তমানে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৩ গিগাওয়াটে। এর মধ্যে ইউরোপীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১৯০ গিগাওয়াট পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে।

ফিচ জানায়, বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরো বেশি পরিমাণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রতি ইঙ্গিত করে। পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান বাজার এ খাতের অগ্রগতিকে আরো উল্লেখযোগ্য করে তোলে।

বিশ্বব্যাপী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাইরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎসের বৃহৎ অংশ জুড়ে আছে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা। ২০২০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এ ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্প বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৭২ শতাংশ। নিজেদের জ্বালানি ব্যবস্থাকে কার্বনমুক্ত করতে বিভিন্ন দেশের ক্রমাগত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এমন দৃশ্য দেখা যায়। আগস্টে প্রকাশিত ফিচের ভিন্ন একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

চলতি বছর নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাইরে বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের অংশ ১২ শতাংশ পরিমাণ। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ২২ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে অফশোর (মূল ভূখণ্ডের বাইরে সমুদ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত) বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিমাণ উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের তুলনায় বেশ বেড়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বায়ুবিদ্যুতের ৫৫ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় অফশোর প্রকল্পগুলো থেকে এবং ৪৫ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় উপকূলীয় প্রকল্পগুলো থেকে।

ফিচের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আর্থিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে অফশোর প্রকল্পগুলো উপকূলীয় প্রকল্পগুলোকে ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে চলমান অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৪০০ কোটি ডলার এবং উপকূলীয় প্রকল্পগুলোর আর্থিক মূল্য ১৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরিকল্পনায় থাকা ১ হাজার ৩১৬টি বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যে চলমান ৮০৬টি প্রকল্পের মোট আর্থিক মূল্য ৪৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে পরিকল্পনায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ খাতের আধিপত্য লক্ষ করা যায়।

বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপীয় অঞ্চল বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে শীর্ষস্থানে থাকার জন্য প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অফশোর প্রকল্পগুলো থেকে বিদ্যুৎ সক্ষমতার ১১ দশমিক ৫ গিগাওয়াট সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের দেয়া ২০৩০ সালের মধ্যে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৩০ গিগাওয়াট সংগ্রহ করার প্রতিশ্রুতির আলোকে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ফিচের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এশিয়া অঞ্চলেও বেশ কয়েকটি বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী এক দশকে ৩৩২ গিগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ বায়ু প্রকল্প থেকে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে চীনের।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, সামনের দিনগুলোয় এশিয়ার বাজারে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের বেশ অগ্রগতি লক্ষ করা যায়। একই সঙ্গে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকায়ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প বৃদ্ধির কিছু চিত্র দেখা যায়। প্রযুক্তিগত খরচ কমে আসা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও উৎপাদন ব্যবস্থায় উন্নতির দরুন প্রকল্পগুলো এত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

YouTube
Pinterest
LinkedIn
Share
Instagram
WhatsApp
FbMessenger
Tiktok