বস্ত্র-মিউচুয়াল ফান্ডে চমক

স্টাফ রিপোর্ট

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড ও বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ছুটতে থাকা সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ার ক্ষেত্রে ভাটা পড়েছে। সেই সঙ্গে ব্যাংক খাতও পতনের মধ্যে পড়েছে।

ব্যাংক ও সাধারণ বীমা খাতের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের দরপতন হলেও মিউচুয়াল ফান্ড ও বস্ত্র খাতের প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ায় মূল্যসূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম। ফলে টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে পর করেছে শেয়ারবাজার।

এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। প্রথম আড়াই ঘণ্টা দাম বাড়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে।

তবে দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে একের পর এক সাধারণ বীমা ও ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমতে থাকে। ফলে আটকে যায় সূচকের বড় উত্থান। অবশ্য সাধারণ বীমা ও ব্যাংকের পতনের মধ্যেও মিউচুয়াল ফান্ড ও বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। সেই সঙ্গে দাম বাড়ে বেশিরভাগ জীবন বীমা কোম্পানির। যার ওপর ভিত্তি করে শেষ পর্যন্ত সবকটি সূচকই ঊর্ধ্বমুখী থাকে।

দিন শেষে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৬৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই’র শরিয়াহ্ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

দিনভর বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৯টির। আর ৯টির দাম অপরিবর্ততি রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকায় মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে ৩৫টি। এ খাতে তালিকাভুক্ত ৩৭টির মধ্যে মাত্র একটির দাম কমেছে। বস্ত্র খাতের ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টির দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে ৪৮টির।

অপরদিকে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২১টির। আর ৪০টি সাধারণ বীমার মধ্যে মাত্র ৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির। অবশ্য তালিকাভুক্ত ১০টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে ৭টির দাম বেড়েছে এবং ৩টির দাম কমেছে।

ব্যাংক ও সাধারণ বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর দরপতনের দিনে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ২ হাজার ৭০০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ২২৯ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৫৫ কোটি ৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ফরচুন সুজ, ন্যাশনাল পলিমার, ড্রাগন সোয়েটার, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রিং সাইন টেক্সটাইল এবং আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে ৬৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ৩১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২০টির দাম কমেছে এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *