পুঁজিবাজার খুলছে আজ

স্টাফ রিপোর্ট

ব্যাংক হলিডে, সাপ্তাহিক ছুটি ও লকডাউনকালীন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ থাকার কারণে টানা চারদিন বন্ধ ছিল দেশের পুঁজিবাজার। বন্ধ শেষে আজ থেকে পুঁজিবাজারে আবার লেনদেন শুরু হচ্ছে। সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারদিন পুঁজিবাজারে লেনদেন চলবে। অবশ্য এ সময়ে বিনিয়োগকারীদের ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনে অংশগ্রহণ করতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে সশরীরে ব্রোকারেজ হাউজে এসে লেনদেন করা যাবে না।

বন্ধের আগে গত সপ্তাহে ইতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পুঁজিবাজারের লেনদেন। এ সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ১৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। যা গত ৪১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। কঠোর লকডাউনের আভাস থাকা সত্ত্বেও এ সময়ে একদল বিনিয়োগকারীর মধ্যে শেয়ার কেনার প্রবণতা দেখা গেছে। অবশ্য কভিড-১৯ পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ সাইডলাইনে থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও লেনদেনের পরিমাণ দুটোই কমেছে। এ সময়ে বস্ত্র, ব্যাংক ও সাধারণ বীমা খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল। গত সপ্তাহে জীবন বীমা, কাগজ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ারে বিনিয়োগের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে ভ্রমণ, সেবা ও বিবিধ খাতের শেয়ারে ঋণাত্মক রিটার্ন এসেছে এ সময়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ব্যাংকের সুদের হার কম। আর সুদের হার কম থাকলে পুঁজিবাজার চাঙ্গা থাকে। বর্তমানে অন্য যেকোনো খাতের তুলনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ লাভজনক। তাই কঠোর লকডাউন কিংবা কভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখিতার মধ্যেও তারা বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

কঠোর লকডাউনের মধ্যে কীভাবে পুঁজিবাজারের লেনদেন চলবে, সে বিষয়ে এরই মধ্যে বিএসইসির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপকালে বিএসইসি সীমিত আকারে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা ৫ জুলাই থেকে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এখন থেকে সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পুঁজিবাজারে শুধু ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন চালু থাকবে। কোনো বিনিয়োগকারী সশরীরে কোনো প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারবেন না। লেনদেন কার্যক্রম চালুর সুবিধার্থে বিএসইসিসহ পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকবে। পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সীমিতসংখ্যক কর্মচারীর উপস্থিতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের শর্তাগুলো পরিপালন করতে হবে।

কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ চলাকালে পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি মুভমেন্ট পাস জারি করেছে বিএসইসি। বাজারসংশ্লিষ্ট সবাইকে চলাচলের সুবিধার্থে এ পাস সঙ্গে রাখতে হবে। বিএসইসি কর্তৃক ইস্যু করা মুভমেন্ট পাসে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপকালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসইসি ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে, যা এ বছরের ৫ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তাই জরুরি আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পুলিশ মহাপরিদর্শকের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশবাহককে অবাধ চলাচলের সুযোগ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নভেল করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ রুখতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন বন্ধ ছিল দেশের পুঁজিবাজার। এর পর থেকে অবশ্য কভিডের কারণে পুঁজিবাজার আর কখনো বন্ধ হয়নি। উপরন্তু এ সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে বেশ চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। করোনাকালে গত এক বছরে ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশের মতো। এ সময়ে বাজার মূলধন বেড়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে এ বছরের ৫ এপ্রিল থেকে সারা দেশে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন বা চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। ১৪ এপ্রিল থেকে বিধিনিষেধ আরো কঠোর করা হয়। গত ৫ এপ্রিল থেকে চলমান লকডাউনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জরুরি সেবার আওতায় ব্যাংকিং লেনদেন চালু রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। এর সঙ্গে সংগতি রেখে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং কার্যক্রমে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময়ও বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরের ৩১ মে ব্যাংকিং কার্যক্রমের সময় বাড়ায় পুঁজিবাজারের লেনদেনের সময় বেড়ে আগের সময়ে ফিরে যায়। ৩১ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *