দুর্বল হয়েছে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য আরো দুর্বল হয়েছে। কয়েক মাস ধরেই দেশটির আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ধীর ছিল। এপ্রিলে এটি আরো শ্লথ হয়েছে। বিশেষ করে চীনা পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধিতে ব্যাপক পতন হয়েছে। গত মাসে দেশটির রফতানি আয় বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। যেখানে মার্চেও রফতানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে এ সময়ে অপরিবর্তিত রয়েছে আমদানি ব্যয়। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি প্রকাশিত কাস্টমস ডাটা অনুসারে, এপ্রিলে ২৭ হাজার ৩৬২ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে চীন। অর্থের হিসাবে রফতানির এ পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এপ্রিলে রফতানি প্রবৃদ্ধির হার ২০২০ সালের জুনের পর সবচেয়ে কম। রফতানি প্রবৃদ্ধি কমার পেছনে বিশ্লেষকরা কঠোর ও বিস্তৃত কভিডজনিত নিষেধাজ্ঞায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার পতনকে দায়ী করেছেন।

এদিকে এপ্রিলে চীন ২২ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। গত মাসের আমদানি ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ মার্চে দশমিক ১ শতাংশ পতনের চেয়ে কিছু উন্নতি হয়েছে। যেখানে অর্থনীতিবিদরা ৩ শতাংশ সংকোচনেরও পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের এ তথ্য বিশ্লেষকদের আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত করেছে। দেশটির জিরো কভিড নীতির কারণে আশঙ্কা ছিল সাংহাই ও অন্য শিল্পাঞ্চলগুলোর বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে গাড়ি, ইলেকট্রনিকস এবং অন্যান্য শিল্পের বাণিজ্য ও কার্যক্রম ব্যাপকভাবে কমে যাবে। তবে বিশ্লেষকরা আশা করছেন, প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় চলতি মাসে শিল্প-কারখানার কার্যক্রম ঊর্ধ্বমুখী হবে।

গত মাসে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত মার্চের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এ সময়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ৫ হাজার ১১২ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত পেয়েছে। অর্থনীতিবিদরা ৫ হাজার ৬৫ কোটি ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। মার্চে এ উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি ডলার।

কয়েক মাস ধরেই চীনে কভিড সংক্রমণের গতি ঊর্ধ্বমুখী। দুই বছরের মধ্যে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার চেষ্টায় সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা হাইওয়ে ও বন্দরগুলোর কার্যক্রম সীমিত করে দেয়। এতে সাংহাইয়ের বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ কয়েক ডজন শহরে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এ বিধিনিষেধের আওতায় অ্যাপলের আইফোন প্রস্তুতকারক ফক্সকন থেকে টয়োটা ও ফক্সওয়াগনের মতো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে এপ্রিলে কারখানা কার্যক্রম সংকোচনের মুখোমুখি হয়েছে। শিল্প সমীক্ষাগুলো বলছে, এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমিয়ে দিতে পারে।

পণ্য ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু ইয়ুতে বিদেশী বাণিজ্য ব্যবস্থাপক শি জিনিউ বলেন, কভিডের কারণে মাত্র ২০-৫০ শতাংশ দোকান খোলা। এরই মধ্যে পরিস্থিতি যথেষ্ট কঠিন হয়ে উঠেছে। ঘটনা এমন যে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আমরা একটি ফুটো ছাদ পেয়েছি।

অন্যদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধও চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করেছে। ক্রমাগত ভোক্তা ব্যয় দুর্বল এবং রিয়েল স্টেট খাতে দীর্ঘায়িত মন্দাও বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেশটিতে বেকারত্ব হার প্রায় দুই বছরের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ আস্থা বাড়াতে এবং আরো কর্মসংস্থান হারানো ঠেকাতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

কিছু বিশ্লেষক ক্রমবর্ধমান মন্দার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, বেইজিং জিরো কভিড নীতি থেকে সরে না এলে মন্দাও দেখা দিতে পারে। অন্যথায় নীতিনির্ধারকদের ২০২২ সালের প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরো প্রণোদনা দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.