দুবাইয়ের রফতানি বেড়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্ট

গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের এখন পর্যন্ত দুবাই চেম্বার সদস্যদের রফতানি ও পুনঃরফতানি আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। কভিড-১৯ সংক্রমণের ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শক্তিশালী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করায় বাণিজ্য নগরীটির রফতানি আয়ে এমন প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি দুবাই চেম্বারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটা দেখা যায়।

দুবাই চেম্বার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দুবাইয়ের রফতানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৩০ কোটি দিরহাম। দুবাই কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করায় এ আয় অর্জন হয়েছে।

দুবাইভিত্তিক ব্যবসায়ীদের এ সংস্থা জানায়, আগস্টে দুবাই চেম্বারের রফতানি ও পুনঃরফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রফতানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৪০ কোটি দিরহাম। চেম্বারটি জানায়, চলতি বছরের আগস্টে তারা মোট ৫৮ হাজার ১৫৪টি সার্টিফিকেট অব অরিজিন ইস্যু করেছে। জুলাইয়ে এর পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ১২৯টি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দুবাই চেম্বারের উল্লেখযোগ্য রফতানি গন্তব্য ছিল জিসিসিভুক্ত দেশগুলো। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে দুবাই চেম্বারের সদস্যদের রফতানি ও পুনঃরফতানি কার্যক্রম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এ সময় জিসিসি অঞ্চলের মোট রফতানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৯৬০ কোটি দিরহাম।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, এ সময়ে দুবাই চেম্বারের মোট রফতানি ও পুনঃরফতানি কার্যক্রমের ৫৩ শতাংশের গন্তব্য ছিল জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে। আগস্টে জিসিসি অঞ্চলে রফতানি ও পুনঃরফতানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ১৪০ কোটি দিরহাম, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে জিসিসিবহির্ভূত শীর্ষ ১০ রফতানি ও পুনঃরফতানি গন্তব্যের দেশগুলোতে চেম্বারের রফতানি কার্যক্রম বেড়েছে ৩১ শতাংশের বেশি।

দুবাই চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হামাদ বুয়ামিম জানান, রফতানি ও পুনঃরফতানি কার্যক্রমের এ পরিসংখ্যান দুবাইয়ের বাণিজ্যিক খাতের স্থিতিশীলতার শক্তিমত্তা জানান দেয়। দুবাই এক্সপো ২০২০-এর দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই এর পরিসংখ্যান আরো শক্তিশালী হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট সেক্টরগুলোতে দুবাই চেম্বার তার অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের প্রশাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাখতুমের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা সফল করতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দুবাইয়ের বার্ষিক বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন দিরহাম থেকে ২ ট্রিলিয়ন দিরহামে উন্নীত করার লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন শেখ মোহাম্মদ।

হামাদ বুয়ামিম জানান, চেম্বার সদস্যদের জন্য রফতানি সুযোগ বাড়াতে দুবাই চেম্বারের প্রতিনিধি দপ্তর বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। একই সঙ্গে তারা দুবাইয়ের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়কে আরো বিস্তৃত করতেও কাজ করছে। এর ফলে দুবাইয়ের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা আরো সমৃদ্ধিশালী হবে এবং ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আশা করেন, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক্সপো ২০২০-এর মাধ্যমে দুবাইয়ের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের গতি আরো বৃদ্ধি পাবে এবং আগের মতোই আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *