দর বৃদ্ধিতে মিউচুয়াল ফান্ডের আধিপত্য

স্টাফ রিপোর্ট

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সমাপনী দরের ভিত্তিতে দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ তালিকায় মিউচুয়াল ফান্ডের আধিপত্য দেখা গেছে। গত সোমবার দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০টির মধ্যে ৮টিই মিউচুয়াল ফান্ডের দখলে ছিল। অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বড় পতনের পর সোমবার আবারো স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে ডিএসইর লেনদেন। পাশাপাশি সূচক বৃদ্ধির ধারাও অব্যাহত রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে গত সোমবার দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ তালিকায় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর। সোমবার কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম দিনেই শেয়ারটির দর বেড়েছে ৫ টাকা বা ৫০ শতাংশ। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ডের। মিউচুয়াল ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিট দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে আরেক মিউচুয়াল ফান্ড এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড। এ ফান্ডটির প্রতি ইউনিটেরে দর বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিট দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

তালিকায় এরপরে রয়েছে যথাক্রমে সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড ও ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। এসব ফান্ডের ইউনিট দর বেড়েছে যথাক্রমে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ।

৫ হাজার ৩৪৪ পয়েন্ট নিয়ে গত সোমবার লেনদেন শুরু করেছিল ডিএসইএক্স। লেনদেন শেষে তা বেড়ে ৫ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে সূচকটি বেড়েছে ২৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৫ শতাংশ। ডিএসইর ব্লু চিপ সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ১৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে সোমবার লেনদেন শেষে ২ হাজার ৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের দিন যা ছিল ২ হাজার ২২ পয়েন্ট। এক্সচেঞ্জটির শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ওইদিন প্রায় ৩ পয়েন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে দিনশেষে ১ হাজার ২১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবস শেষে যা ছিল ১ হাজার ২১৮ পয়েন্ট।

সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৬০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিনশেষে দর বেড়েছে ১৯২টির, কমেছে ৫৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১১৩টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার ডিএসইতে মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বিবিধ খাত। এর পরেই ১৬ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এছাড়া ১৫ শতাংশ দখলে নিয়ে তৃতীয় স্থানে সাধারণ বীমা খাত।

ডিএসইতে সোমবার লেনদেনে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, রবি আজিয়াটা লিমিটেড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ও প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড।

এদিকে সোমবার ডিএসইতে দরপতনের তালিকায় শীর্ষ ১০ সিকিউরিটিজ ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পূরবী জেনারেল ইন্সু্যূরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, নিটল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, এইচডব্লিউএ ওয়েল টেক্সটাইলস (বিডি) লিমিটেড, শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড, আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেড, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আরামিট লিমিটেড ও ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড।

এদিকে একদিন বড় পতনের পর আবারো স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে ডিএসইর লেনদেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিনেই লেনদেনে বড় পতন হয়। ওই দিন টাকার অংকে লেনদেন আট মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যায়। এক্সচেঞ্জটিতে রোববার মোট ৩৮২ কোটি ৫৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। তবে এরপরের দিনই আবারো লেনদেন স্বাভাবিক গতিতে ফেরে। সোমবার ৬৩৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার সিএসইতে সোমবার প্রধান সূচক সিএসসিএক্স দিনের ব্যবধানে ৫১ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের দিন শেষে যা ছিল ৯ হাজার ৩৩৯ পয়েন্ট। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৩৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৪টির, কমেছে ৫১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৬২টির বাজারদর।

সোমবার সিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে ৪০ কোটি ৬০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *