দমকা হাওয়ায় উড়ে গেল উপহারের ঘরের চাল

স্টাফ রিপোর্ট

দমকা হাওয়ায় উড়ে গেছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একটি আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরের বারান্দার চাল। ভেঙে পড়েছে পিলার।

সম্প্রতি উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকায় ৪টি ঘরের বারান্দার চাল উড়ে যায়। এ সময় ভেঙে পড়ে বারান্দার দুইটি পিলার।

মুজিব বর্ষে এ আশ্রায়ণ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ১৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, চালগুলোর মধ্যে একটি চাল উড়ে পাশের ডোবায় পড়ে আছে। আর একটি চাল ঘরের বারান্দার সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখা আছে। দুটি পিলার পড়ে আছে।

সুফলভোগী ও স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে উপহারের ঘরের কাজ শেষ করা হয়েছে। ঘরগুলোর পিলারে কোনো রড না থাকায় একটু বাতাসেই ঘরগুলো দুলে ওঠে। ঘরের পিলালে মধ্যে জিআই এর চিকন তার ব্যবহার করা হয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সালমা খাতুনের স্বামী আফজাল হোসেন জানান, ১৬টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৪-৫টি পরিবার এখানে থাকে। রোববার (৬ জুন) বৃষ্টি ও বাতাস হয়েছিল। সেই বাতাসে চাল উড়ে গেছে আর পিলার ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়হীনদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। এভাবে একটু দমকা হাওয়ায় উড়ে গেলে তো বিপদ। কিছুদিন পর এই ঘর সুবিধাভোগিদের তেমন কোনো উপকারে আসবে না। এতে শুধু অর্থের অপচয় হচ্ছে।

পাইকগাছা নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রশাস্ত কুমার মণ্ডল তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘পাইকগাছায় মুজিব শতবর্ষে নির্মিত আদর্শ গ্রামের (আলোকদিয়া) ঘর  সামান্য ঝড়ে  ঘরের পিলারসহ টিনের চালের  পাখা গজিয়েছে। ঠিকাদার অনিয়ম করেছে আর কর্তারা চেয়ে চেয়ে দেখেছে। তাই এমনটি হয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। এলাকাবাসী তদন্ত চাচ্ছে।’

প্রশাস্ত কুমার মণ্ডল জানান, এখানে নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হয়েছে। কারণ চরের কাদা দিয়ে গাঁথুনি দিলেও ভেঙে পড়ে না। দুর্নীতি এখন সকলখানে কিন্তু এই ঘর নির্মাণে সীমাহীন দুর্নীতি করা হয়েছে। এখন ওখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী জুনায়েদুর রহমান বলেন, ‘ওই ঘরগুলো নির্মাণ কাজে তেমন কোনো ত্রুটি ছিল না। তবে ঘর নির্মাণ কাজের সময় পানির খুব অভাব হয়েছিল। আমি ও ইউএনওসহ সকলে খুব চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পাইনি। সেকারণে গাঁথুনি একটু কম মজবুত হয়েছে। সেকারণে দমকা হাওয়ায় পিলার ভেঙে পড়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, ঘরগুলো যথা নিয়মে করা হয়েছিল। উপজেলার ২৫০ ঘরে মধ্যে থেকে মাত্র ৪টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই এলাকা দিয়ে একটি কাল বৈশাখী ঝড় বয়ে গিয়েছিল। তাতেই ওই ঘরের চাল উড়ে গেছে ও পিলার ভেঙে পড়েছে। তাছাড়া ওই ঘরগুলোতে টিন ও মাটির সঙ্গে টানা দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি ওই ঘরের বাসিন্দারা। ওই ঝড়ে উপজেলার অনেক বাড়ির চালও উড়ে গেছে।  ৮টি বড় গাছ উপড়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *