তাইওয়ানে ১১ লাখ ডোজ টিকা পাঠাচ্ছে জাপান

স্টাফ রিপোর্ট

কভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর এবারই ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে তাইওয়ান। ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করার জন্য স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিতে আরো ১১ লাখ ডোজ কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা পাঠাচ্ছে জাপান। অনুদান হিসেবে চলতি সপ্তাহেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ডোজগুলো পাঠানো হবে। খবর এপি।

তাইওয়ানে সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবের আগে কভিডে সংক্রমিত হয়ে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে এখন মৃত্যুর সংখ্যা ৭০০ পেরিয়ে গেছে। যদিও কয়েকদিন ধরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, বৃহস্পতিবার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার চালানটি পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এর আগে গত মাসে ১২ লাখ ৪০ হাজার ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা তাইওয়ানে অনুদান দিয়েছিল জাপান। টিকা নির্মাতারা চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে উৎপাদন করতে না পারায় বিশ্বজুড়ে এ টিকার সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক দেশ আগাম অর্ডার দিয়েও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা পাচ্ছে না। টিকা কেনার চেষ্টায় হস্তক্ষেপের জন্য তাইওয়ান চীনকে দোষারোপ করছে। স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি নিজেও টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে সেটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে নিজস্ব নাগরিকদের ফাইজার ও মডার্নার টিকা দিচ্ছে জাপান। তবে লাইসেন্স চুক্তির আওতায় জাপানে উৎপাদিত অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ডোজগুলো জাপানিদের ওপর প্রয়োগের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দেশটি। তাই অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডোজগুলো বিভিন্ন দেশকে অনুদান দিচ্ছে জাপান।

এরই মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে দেশটি ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় ১০ লাখ ডোজ করে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাঠিয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনেও একই পরিমাণ টিকা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মোতেগি বলেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে কোভ্যাক্স উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলোতে ১ কোটি ১০ লাখ ডোজ টিকা পাঠানো হবে। এটি কোভ্যাক্স ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে তিন কোটি ডোজ টিকা সরবরাহে জাপানের প্রতিশ্রুতির একটি অংশ।

তাইওয়ানে টোকিওর টিকা অনুদান দ্বীপটির পক্ষে সমর্থন জোরদার করার ইংগিত দেয়। অন্যদিকে নিজের দাবি করা ভূখণ্ডের প্রতি চাপ বাড়িয়ে চলেছে চীন। এক চীন নীতির অধীনে চীনের সঙ্গে জাপানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যদিও অর্থনৈতিক ও সুরক্ষা নিয়ে দেশ দুটি একসঙ্গে কাজ করে।

মোতেগি তার বক্তব্যে তাইওয়ানের সঙ্গে জাপানের বন্ধত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে সুনামি বিপর্যয়ে জাপানে তাইপের সহায়তার বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *