ড্রোনে চেপে অফিসে যাচ্ছে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার

আকাশে ফানুসের মতো ভাসছে গাড়ি। নেই কোনো যানজটের আশঙ্কা। ড্রোনে চেপে অফিসে যাচ্ছে মানুষ। এসব ঘটনা এখন আর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পর্যায়ে নেই। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে শূন্যে ভাসছে প্রাইভেট কার। ধারণাটি অ্যাডভান্সড এয়ার মোবিলিটি (এএএম) বাজারের অংশ। ২০২৫ সাল নাগাদ এএএমের বাজারমূল্য ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নগরায়ণের ফলে শহরে ভিড় বেড়েছে। দালান ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে ট্রাফিকের ভিড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। মাত্র কয়েক দশকেও যে ভাবনা অসম্ভবপর ছিল, তা সত্যি করে উন্নত প্রযুক্তিবলে আকাশে যানবাহন চলাচল শুরু হবে অদূর ভবিষ্যতেই। রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বিদ্যুচ্চালিত উড়ন্ত ট্যাক্সি নিয়ে কাজ করা উইস্কের এশিয়া-প্যাসিফিকের পরিচালক অ্যানা কমিনিক বলেন, আমরা এভাবে সড়ক পরিবহন ব্যবহার করা চালিয়ে যেতে পারি না। থ্রিডি মোবিলিটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

বোয়িং করপোরেশন ও কিটি হক করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয় উইস্ক। চার বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের টেকাপোতে সংস্থাটি একটি স্বচালিত বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ কোরার পরীক্ষা চালাচ্ছে। জনসাধারণের এয়ার ট্যাক্সি ব্যবহারের অনুমোদন পেতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ কিছু নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুই আসনবিশিষ্ট এয়ার ট্যাক্সিটি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ৪০ কিলোমিটার বা ২৫ মাইলের ঊর্ধ্বে ভ্রমণ করতে সক্ষম।

চলতি বছরের ৫ নভেম্বর একটি প্যানেল আলোচনায় কমিনিক বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ শহরবাসী হবে। ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে শহরে চলাচল করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। নতুন করে শহর পরিকল্পনা করাও ব্যয়বহুল হবে। কাজেই চলাচলের জন্য অবশ্যই আকাশের মুখাপেক্ষী হতে হবে।

এদিকে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পার্সোনাল এয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড ভেহিকল (প্যাল-ভি) আকাশে ওড়া থেকে মাত্র এক কদম পিছিয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির দুই আসনবিশিষ্ট সড়ক যান গাইরোপ্লেন লিবার্টি এ বছরই ইউরোপের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। তথ্যানুযায়ী, লিবার্টির সর্বোচ্চ গতি হবে প্রতি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার এবং ওড়ার সীমা হবে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। প্যাল-ভি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদান পর্ব শেষ হলে ২০২৩ সালেই বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হবে উড়ন্ত গাড়ি। এখন পর্যন্ত ১৫টি দেশ প্যাল-ভি’র এ আকাশযান ক্রয়াদেশ দিয়েছে। আরো ১৯৩টি দেশ কেনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এদিকে কমিনিক বলছে, বাজারে তারা প্রথম না হলেও সেরাটাই হবে।

এএএমের বাজারমূল্য ২০২৫ সাল নাগাদ ১ হাজার ৭০০ কোটি ও ২০৩৫ সাল নাগাদ ১১ হাজার কোটি হবে বলে ধারণা করছেন অ্যালাইড মার্কেট রিসার্চ। এদিকে জেটস্যুটের ব্রিটিশ আবিষ্কারক ও গ্র্যাভিটি ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রাউনিং এরই মধ্যে কয়েকটি দেশের সেনাবাহিনী সমেত তার জেটপ্যাকের পরীক্ষা করেছেন। ৩১৭ পাউন্ডের খরচে জেটস্যুটটি একজনকে প্রায় ৪ মিনিট শূন্যে চলাচলের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। ব্রাউনিংয়ের প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে উড্ডয়নের সময়কাল দীর্ঘ করার জন্য পরীক্ষা করছে। জেটপ্যাকের ব্যবহারের ফলাফলের জন্য ৩৫টি দেশের ডাটাসেট প্রস্তুত করেছেন তিনি।

এদিকে প্যাল-ভি’র সিইও রবার্ট দিঙ্গামানসে ও কমিনিক বলেছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে শিল্প-কারখানা একই সঙ্গে উপকৃত ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে টেস্ট ড্রাইভ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন রবার্ট। তবে একই সঙ্গে মহামারী সংকটের ফলে সরাসরি দেখা করার প্রয়োজনীতা থেকে বেড়েছে ব্যক্তিগত জেটের চাহিদা। এদিক থেকে প্যাল-ভি’র ব্যক্তিগত উড়ন্ত যানের উদ্ভাবন সুনজরেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.