ডিজিটাল মুদ্রার পরীক্ষামূলক ব্যবহারে চার কেন্দ্রীয় ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্ট

বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম দ্য ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্ট (বিআইএস)। প্রতিষ্ঠানটি মূলত আন্তর্জাতিক আইনের পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করে। এবার সীমান্তবহির্ভূত লেনদেনকে সহজ করতে ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার পরীক্ষা করে দেখছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিআইএস। এজন্য অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে জোট গঠন করেছে সংস্থাটি। যে ডিজিটাল মুদ্রার কথা বলা হচ্ছে, তার নাম দেয়া হয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সিজ (সিবিডিসি)।

দ্য ন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রজেক্ট ডানবার নামে নতুন একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈশ্বিক প্রধানদের সমন্বয়ে সীমান্তবহির্ভূত লেনদেনের জন্য প্রটোটাইপ ধরনের প্লাটফর্ম তৈরি করা হবে। এটি সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সিজের (সিবিডিএস) মাধ্যমে লেনদেন করবে।

এক বিবৃতিতে বিআইএস জানিয়েছে, মাল্টি-সিবিডিসি প্লাটফর্মের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি নিজেদের মধ্যে ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রয়োজন ফুরাবে এবং বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় কমবে।

সিবিডিএস মূলত ডিজিটাল মুদ্রারই একটি রূপ, যা সরাসরি সেন্ট্রাল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পরবর্তী সময়ে এটিকে আর্থিক মধ্যস্থতাকারী কিংবা বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্যাংক নেগারা মালয়েশিয়ার সহকারী গভর্নর ফ্রাজিলি ইসমাইল বলেন, প্রজেক্ট ডানবারের আওতায় পরিচালিত মাল্টি সিবিডিসি প্লাটফর্মের মাধ্যমে আগের চাইতে অনেক সহজভাবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে লেনদেন করা যাবে। এর মাধ্যমে লেনদেনের পুরনো প্রথা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। পাশাপাশি আরো কার্যকর ও দক্ষ আন্তর্জাতিক সেটেলমেন্ট প্লাটফর্ম হিসেবেও এটি কাজ করতে পারবে। আমরা আশা করি, প্রকল্পটি আরো দ্রুত বিস্তৃত হবে এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতাকে উৎসাহিত করবে। এছাড়া এটি আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা ও সাধারণ প্লাটফর্মের দক্ষতা, দুটিকেই একত্র করবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সিবিডিসিকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছে দ্য ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্ট। তারা বলছে, এর মাধ্যমে তারা একটি উন্মুক্ত, নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক আর্থিক ব্যবস্থার প্রবর্তনে সহায়তা করেছে, যা উদ্ভাবন ও জনস্বার্থে কাজ করবে। গত জুনে প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, অত্যন্ত দক্ষ একটি আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার মজবুত ভিত্তি তৈরি করতে পারে সিবিডিএস। এটা শক্তিশালী তথ্য নীতিমালা ও গোপনীয়তার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে। সিবিডিএসের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারলে বা এর সুবিধাগুলো সম্পর্কে বুঝতে পারলে আন্তর্জাতিক সহযোগীরাও আগ্রহী হবেন।

অন্যদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, যার মাধ্যমে অনেক অবৈধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে। সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী কাজও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে।

আগামী বছরের শুরুতেই প্রজেক্ট ডানবারের ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা করছে বিআইএস, যেখানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সম্পর্কে আরো বেশি তথ্য পাওয়া যাবে। গত এপ্রিলে দ্য ব্যাংক অব জাপান জানিয়েছিল যে, ডিজিটাল ইয়েন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করবে তারা। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানায়, তারা বিটকয়েনের উন্নয়নে কাজ করতে আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করবে।

জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা জানিয়েছেন, তারা সিবিডিএসের সঙ্গে কাজ করতে চান। আরো বৃহৎ পরিসরে তাদের জনস্বার্থের নীতিমালাগুলো বুঝতে ও তার উন্নয়ন ঘটাতে এটি সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *