ডলার কারসাজিতে জড়িত চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু; ৫ মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত নজরদারিতে আরো

জীবন ইসলাম

কার্ব মাকেটে ডলার কারসাজিতে বেসরকারি ব্যাংক, মানি চেঞ্জার ও কিছু ব্যবসায়ী জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য যৌথভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তে নেমেছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। আরো কয়েকটি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান নজরদারিতে রয়েছে।
লাইসেন্স স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছেÑ বিসমিল্লাহ মানি চেঞ্জার, অঙ্কন মানি চেঞ্জার ও ফয়েজ মানি চেঞ্জার। গত দুদিনে মতিঝিল, পল্টন, ধানমণ্ডি ও বনানী সহ ঢাকার ৪২টি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তদন্ত কমিটি।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রতি ডলারের মূল্য হচ্ছে ৯৪.৭০ টাকা। কিন্তু গত সপ্তাহে কার্ব মাকের্টে তা বিক্রি হয় ১১২ টাকা। চলতি সপ্তাহেও তা ১০৫ থেকে ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার বেসরকারি কিছু ব্যাংকও ১০৫ থেকে ১০৭ টাকায় প্রতি ডলার বিক্রি করছে।
এর আগে ব্যাংক পরদির্শন করে তদন্ত কমিটি যা দেখেছে, তা হচ্ছেÑ অনেক ব্যাংক সীমার বেশি ডলার ধারণ করছে। আবার মুনাফা বাড়াতে বেশি দামে ডলার ক্রয় করে আরো বেশি দামে বিক্রি করছে কিছু ব্যাংক। পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের আয় প্রত্যাবাসন হলেও তা নগদায়ন করেনি; এভাবে ডলার সংকট বাড়ানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। রপ্তানি আয় বাড়লেও আমদানি ব্যয়ের চেয়ে কম; প্রবাসী আয়ও তুলনামূলকভাবে বাড়েনি। তার ওপর বিদেশে চিকিৎসা, শিক্ষা এবং ভ্রমনের জন্য ডলার প্রয়োজন হয়। যেকারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ডলার সংকট মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বাইরে থেকে বিলাস সামগ্রী সহ ২৭টি পণ্য আমদানিতে ব্যাংক ঋণ বন্ধ করে দিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধ এবং ব্যাংকগুলোর খরচ কমাতে গাড়ি ক্রয় বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্ব বুঝে প্রকল্প ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে।
সরকার তথা কেন্দ্রƒীয় ব্যাংকের কতিপয় উদ্যোগ গ্রহণ করায় ডলারের চাহিদা জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ করেছে। অর্থাৎ জুন মাসে ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ৭৯৬ কোটি মার্কিন ডলারের আর জূলাই মাসে খেলা হয়েছে ৫৪৭ কোটি ডলারের।
সারাদেশে ২৩৫টি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৭৫টি আর ঢাকার বাইরে ৬০টি। মানি চেঞ্জার একটি পাসপোর্টের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০০০ ডলার আর ব্যাংক সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার ইনডোর্সমেন্ট করে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং মুখপত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, মানি চেঞ্জারগুলোকে ডলার ক্রয় বিক্রয় করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ হয়তো অনিয়মের মধ্যে জড়িয়ে পরছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যারা অন্যায় করবে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।
এফসিসিআইএ’র সিনিয়র সহ সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ডলার নিয়ে মানি চেঞ্জারগুলোর মধ্যে কেউ কেউ কারসাজিতে জড়িত আছে; এ কথা সত্য। আর এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করাও হচ্ছে।
তিনি বলেন, এফবিসিসিআই সভাপতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ব্যাংকগুলোকে লাইসেন্স দেয়া হয় ব্যবসা করার জন্য, এক ডলারের বিপরীতে ১০ লাভ করার জন্য নয়। আতএব, এটা প্রমাণিত যে ডলার নিয়ে ব্যাংক, মানি চেঞ্জার ও কিছু লোক কারসাজি করছে এবং করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.