জাপানের পাইকারি মূল্যস্ফীতি ১৩ বছরের সর্বোচ্চে

স্টাফ রিপোর্ট

জাপানে পাইকারি মূল্যস্ফীতির হার গত মাসে ১৩ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং আমদানি মূল্যের বিপরীতে ইয়েনের দুর্বল অবস্থানের ফলে এ চিত্র দেখা যায়। এ পরিস্থিতির ফলে করপোরেট মার্জিনে চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তামূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি বাড়ছে। খবর রয়টার্স।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদনকারীদের এরই মধ্যে বেশ চাপে ফেলছে। সরবরাহ চেইনে সংকীর্ণতা এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে মেঘাচ্ছন্ন পরিস্থিতির ফলে এমনটা দেখা দিয়েছে।

এক বছর আগের তুলনায় সেপ্টেম্বরে জাপানের করপোরেট গুডস প্রাইস ইনডেক্স (সিজিপিআই) বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। গতকাল ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) প্রকাশিত এক তথ্যে এমনটা দেখা যায়, যা ৫ দশমিক ৯ শতাংশের বাজার পূর্বাভাসকে অতিক্রম করেছে। বিওবির প্রকাশিত তথ্যে আরো দেখা যায় আগস্টে সংশোধিত সিজিপিআই সূচক বৃদ্ধির পরিমাণ ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে এ সূচক আরো বাড়ে, যা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে সিজিপিআই সূচক বৃদ্ধির হার।

ডাইওয়া সিকিউরিটিজের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তুরো সুহিরো বলেন, যদি কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, কোম্পানিগুলো চূড়ান্ত লাভের ক্ষেত্রে আরো সংকোচন দেখতে পাবে। যেহেতু জাপান জ্বালানি তেলের অন্যতম আমদানিকারক, সেহেতু এ মূল্যবৃদ্ধিসংক্রান্ত মূল্যস্ফীতি দেশটির অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা পেট্রোলিয়াম এবং কয়লার খরচ বৃদ্ধি করেছে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময় কাঠের তৈরি পণ্যের মূল্য বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

ইয়েনভিত্তিক পাইকারি আমদানিনির্ভর এক সূচকে দেখা যায়, এক বছর আগের তুলনায় সেপ্টেম্বরে পাইকারি আমদানির মূল্য বেড়েছে ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ইয়েনের দুর্বলতাকে প্রকাশ করে। রফতানির পরিমাণ কমলে একটি অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এ সময়ে বিভিন্ন করপোরেশনের সীমারেখা সংকুচিত হয়।

ডাইওয়া সিকিউরিটিজের প্রধান বাজার অর্থনীতিবিদ মারি ইয়াশিতা বলেন, ইয়েনের দ্বিগুণ অবমূল্যায়ন এবং জ্বালানির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির ফলে জাপানের অর্থনীতি একটি বড় আঘাতের সম্মুখীন হতে পারে।

তবে অন্যান্য অর্থনীতির মতো পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির এমন ঘটনা জাপানের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে বৃহৎ আকারে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন বিশ্লেষকরা।

ইটোচু অর্থনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ আতশুসি তাকেদা বলেন, পাইকারি পর্যায়ে অধিকাংশ মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাই কোম্পানিগুলোর ওপর দিয়ে যাচ্ছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব খুব সামান্যই দেখা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *