চুক্তি বাতিলের হুমকি মাস্কের

স্টাফ রিপোর্টার

স্প্যাম বট নিয়ে টুইটার সিইওর সঙ্গে কয়েক দিন ধরে বাক্যুদ্ধ চলছে ইলোন মাস্কের। মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটির ২০ শতাংশই স্প্যাম বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট বলে দাবি টেসলাপ্রধানের, যা টুইটারের দাবির চার গুণ বেশি। প্রকৃত স্প্যাম অ্যাকাউন্টের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলেও মনে করেন মাস্ক। স্প্যাম অ্যাকাউন্ট নিয়ে সঠিক উপাত্ত না পেলে চুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার হুমকি দিয়েছেন টেসলাপ্রধান। খবর টেকক্রাঞ্চ।

গতকাল স্প্যাম ও বট নিয়ে টেসলারাতি নামে এক টুইটার অ্যাকাউন্টের প্রশ্নের জবাবে মাস্ক বলেন, ২২ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্টের ২০ শতাংশই স্প্যাম বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট। টুইটারের দাবির চেয়ে চার গুণ কিংবা তার চেয়েও বেশি।

তিনি আরো বলেন, ৫ শতাংশ স্প্যাম অ্যাকাউন্টের প্রমাণ চাইলে তা প্রকাশ্যে শেয়ারে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন টুইটার সিইও পরাগ আগরওয়াল। এ পরিস্থিতিতে সঠিক উপাত্ত সামনে আনা না হলে চুক্তি এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের তদারকি সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে পেশ করা নথিতে টুইটারের দাবি, নিজস্ব জরিপের ভিত্তিতে তারা দেখতে পেয়েছে প্লাটফর্মটির ৫ শতাংশ অ্যাকাউন্ট স্প্যাম বা বট। ইলোন মাস্কের দাবি, মাত্র ১০০টি নমুনা অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে মাইক্রোব্লগিং সাইটটি।

টুইটারের উপাত্ত নিয়ে মাস্কের সন্দেহের পরিপ্রেক্ষিতে আরো কয়েকজন ব্যক্তি ও সংস্থা স্বাধীন জরিপ চালিয়েছেন। স্পার্কতরো নামে একটি অডিয়েন্স রিসার্চ টুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা র্যান্ড ফিশকিন বলেন, ৯০ দিনে আমরা ৪৪ হাজার ৫৮টি টুইটার অ্যাকাউন্টের ওপর জরিপ চালিয়েছি। সেখানে প্রায় ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ অ্যাকাউন্ট স্প্যাম বা ভুয়া হিসেবে পেয়েছি।

মাস্ক বেশ জোর দিয়ে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মটি অধিগ্রহণে শেয়ারপ্রতি ৫৪ ডলার ২০ সেন্ট দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাদের ভিত্তি ছিল এসইসির কাছে পেশ করা উপাত্ত। যেহেতু ওই উপাত্তে সমস্যা রয়েছে, তাহলে চুক্তিতে পরিবর্তন আবশ্যক।

স্প্যাম অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৫ শতাংশের কম রয়েছে এ বিষয়ে টুইটারের কাছে স্পষ্ট উপাত্ত দাবি করেন মাস্ক। গতকাল অনেকটা আলটিমেটামের সুরে তিনি বলেন, বিষয়টি স্পষ্ট না করলে চুক্তিটি এগোনো যাচ্ছে না। সোমবার মিয়ামিতে এক সম্মেলনেও তিনি বলেন, আমি মনে করি, টুইটারের এক-পঞ্চমাংশ অ্যাকাউন্টই ভুয়া বা স্প্যাম বট।

গত শুক্রবার স্প্যাম ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের সঠিক তথ্যের অপেক্ষায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অধিগ্রহণ চুক্তি ‘সাময়িকভাবে স্থগিত’ ঘোষণা করেন মাস্ক। তার পর থেকে স্প্যাম বট ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ে পরাগ আগরওয়ালের সঙ্গে টুইট যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। গত বছরের শেষের দিকে টুইটার সিইওর দায়িত্ব গ্রহণের পর বেশ নীরবেই কাজ করে যাচ্ছিলেন পরাগ আগরওয়াল। কিন্তু গত এক সপ্তাহে বেশ সরব দেখা যাচ্ছে তাকে। স্প্যাম বা বট অ্যাকাউন্ট নিয়ে একাধিক টুইট করেন তিনি। সেখানে সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে মাস্ককে। সিইওর প্রত্যেকটি মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ রকম আগ্রাসী ও নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে টুইটারের শেয়ারদরে পতন ঘটাচ্ছেন মাস্ক। হয়তো সামনে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের চেয়ে কম মূল্যে অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে চাচ্ছেন বিশ্বের শীর্ষ এ ধনী। এমনও হতে পারে অধিগ্রহণ পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারেন তিনি।

চলতি মাসের শুরুতে মাস্ক যখন টুইটার কিনতে সম্মত হন, তখন টুইটারের শেয়ারদর দাঁড়িয়েছিল ৫০ ডলার। গতকাল আরেক দফা কমে শেয়ারদর ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক প্রস্তাবের চেয়ে কম দামে টুইটার অধিগ্রহণ আদৌ সম্ভব কিনা, এ প্রশ্নের উত্তরে মাস্ক বলেন, সেটাও প্রশ্নের বাইরে নয়। মিয়ামির ‘অল-ইন সামিট ২০২২’ সম্মেলনে মাস্ক বলেন, আমি যত বেশি প্রশ্ন করছি, আমার শঙ্কা তত বাড়ছে। তারা দাবি করছে, তারা একটি জটিল গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহার করে, যা কেবল তারাই বোঝে। এটি মানুষের অবোধ্য কোনো জটিল রহস্য হতে পারে না বলে মনে করেন মাস্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.