চীনে বাড়ির দামে পতন ঠেকাতে লড়াই করছে বড় শহরগুলো

স্টাফ রিপোর্টার

চীনে কমেই চলেছে বাড়ির দাম। আবাসনের মূল্যে এ মন্দা ছোট শহরগুলো থেকে বৃহৎ জনসংখ্যা কেন্দ্রেও ছড়িয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে কমছে স্থানীয় প্রশাসনের আয়। ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করছে কর্তৃপক্ষ। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য পৌরসভার কোষাগারে অর্থের পরিমাণে পতন ঠেকাতে সহায়তা করা।

চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকেই চীনজুড়ে বাড়ির দাম কমছে। দেশটির আবাসন খাতের অন্যতম বৃহত্তম কোম্পানি এভারগ্র্যান্ডের সময়মতো ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে ঋণের ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা বাড়ির দাম কমিয়ে দিয়েছে।

বাড়ির দামে পতন ঠেকাতে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চেংডু ডেভেলপার ও বাড়ির ক্রেতাদের জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উভয় পক্ষের জন্যই ঋণের সীমা বাড়ানোর এবং দ্রুত ঋণ বিতরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি মূল ডেভেলপাররা ঋণ পরিশোধ পিছিয়ে দিতে কিংবা সুদের হার কম দিতে পারবেন।

আবাসন খাতের মন্দা কাটাতে সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চাংডু ঋণের সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ এ মন্দা বাড়ি তৈরির জন্য জমি বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের অন্যতম একটি রাজস্ব উৎসকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

এর আগে এমন সমস্যাগুলো ছোট শহরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি বড় মেট্রোপলিসের মতো শহরগুলোয়ও বিস্তৃত হয়েছে। এ পরিস্থিতি শহরগুলোকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করছে।

উত্তর-পূর্ব চীনের তিয়ানজিন গত মাসে আবাসন খাতের কোম্পানিগুলোর ওপর ফ্ল্যাটের দাম ছাড়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। নতুন নির্মিত বাড়িগুলো নগর সরকারের উল্লেখ করা মূল্যের চেয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা যাবে। বড় ধরনের ডিসকাউন্ট দেয়ার ক্ষেত্রে আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

চীনা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটির পূর্বের জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিং ডেভেলপারদের বাড়ির দাম কমানো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। দাম কমানোর মাধ্যমে বাজারের ভারসাম্য ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চীনের অন্তত ২০টি শহর চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে বাড়ির দাম কমানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের ডাটা অনুসারে, গত মে মাসে চীনের ৭০টি প্রধান শহরের মধ্যে পাঁচটিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন ফ্ল্যাটের দাম আগের মাসের তুলনায় কমেছে। অক্টোবরে ফ্ল্যাটের দাম কমা শহরের সংখ্যা বেড়ে ৫২টিতে পৌঁছেছে, যা ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। চাংডু, তিয়ানজিন ও নানজিংকে নতুন প্রথম-স্তরের শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আকার ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে শহরগুলোর অবস্থান বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংজু ও শেনজেনের মতো প্রথম স্তরের শহরগুলো ঠিক নিচে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

YouTube
Pinterest
LinkedIn
Share
Instagram
WhatsApp
FbMessenger
Tiktok