চীনের কারখানা কার্যক্রমে ঊর্ধ্বমুখী

বেশ অপ্রত্যাশিতভাবেই চীনের কারখানাগুলোর কার্যক্রমে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। তিন মাস পর নভেম্বরে এমন ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা দেখা গেল। মূলত কাঁচামালের দাম ও বিদ্যুৎ রেশনিং সহজ হওয়ায় কারখারখানাগুলো গতি ফিরে পেয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।

দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) জানিয়েছে, নভেম্বরে উৎপাদন খাতের পারচেজিং ম্যানেজার ইনডেক্স (পিএমআই) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্টে। অক্টোবরে যা ছিল ২৯ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, এ সূচক নভেম্বরে ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছতে পারে। কিন্তু তাদের ধারণাকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে পিএমআই। পিএমআই সূচক ৫০ পয়েন্টের ওপরে উঠলে সংকোচন থেকে উত্তরণ শুরু হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়।

গত বছর মহামারীর কারণে অন্য দেশগুলোর মতো ক্ষতিগ্রস্ত ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। তবে মন্দা থেকে তাদের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটিও বেশ দারুণ ছিল। কিন্তু চলতি বছরের মাঝামাঝি এসে সে প্রক্রিয়া গতি হারায়। এর কারণ হিসেবে উৎপাদনে ধীরগতি, মহামারীর কারণে সম্পত্তির বাজারে ঋণের সমস্যাসহ বেশকিছু বিষয়কে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করছেন, তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপিতে যে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে তা চতুর্থ প্রান্তিকেও চলমান থাকতে পারে।

চীনের জ্যেষ্ঠ পরিসংখ্যানবিদ ঝাও কিংঘে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ও বাজার সহনশীল রাখতে সরকারের নেয়া সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের কারণে এ পরিবর্তন এসেছে।

মূলত সরবরাহ চেইনে গতি ফিরে আসার প্রভাব পড়েছে কারখানাগুলোর উৎপাদনের ওপর। কিছু বিশেষ উপকরণের দাম সহনশীল হওয়ায় সেটি এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। অবশ্য এত উন্নতির পরেও হুয়াবাও ট্রাস্টের অর্থনীতিবিদ নিয়ে ওয়েন বলেন, তার প্রত্যাশা সামনের মাসগুলোয়ও উৎপাদন পিএমআই ৫০ বা এর আশপাশে থাকবে। কারণ হিসেবে তিনি কম চাহিদা বা কাঁচামালের দাম পুরোপুরি না কমার কথা বলছেন।

আবার নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার কারণে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, বেইজিংয়ে শীতকালীন অলিম্পিকের সময় সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের উত্তরাংশের কলকারখানাগুলো বন্ধ রাখা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

YouTube
Pinterest
LinkedIn
Share
Instagram
WhatsApp
FbMessenger
Tiktok