চীনা প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য কমেছে ৩ লাখ কোটি ডলার

স্টাফ রিপোর্ট

প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির দমননীতি সত্ত্বেও বিশ্বের বৃহত্তম বিনিয়োগ সংস্থাগুলো চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে যাচ্ছে। সরকারি এ দমননীতির ফলে এরই মধ্যে বৃহৎ আকারের চীনা কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ৩ লাখ কোটি ডলারের মতো হ্রাস পেয়েছে। খবর সিএনএন বিজনেস।

চলমান দমননীতি প্রয়োগের ফলে দেশটিতে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অন্যান্য বেসরকারি খাতের স্থিতাবস্থা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকার এটিকে মাও সেতুংয়ের সময়কার সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করছে। তা সত্ত্বেও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, চীনে বিনিয়োগ করার জন্য এটি এখনো খুব ভালো সময়।

পিকটেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুকা পাওলিনি বলেন, চীনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিষয়টি এখনো ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। সংস্থাটি সুইজারল্যান্ডের বেসরকারি ব্যাংক পিকটেট গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। বর্তমানে তাদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতের অধীনে ৭৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে।

পিকটেট একা নয়, ওয়াল স্ট্রিটের অনেক বৃহৎ কোম্পানিই তাদের গ্রাহকদের ক্রয়ের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা এক্ষেত্রে সাবধান থাকার পরামর্শও দিচ্ছে। বৃহৎ এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ফিডেলিটি, বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপক ব্ল্যাকরক এবং গোল্ডম্যান স্যাকস।

আগস্টে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে ব্ল্যাকরকের পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানান, ব্যবস্থাগুলোর তীব্রতা ভবিষ্যতে ওঠানামা করবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে চীনা কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ন্ত্রণ এজেন্ডা ভবিষ্যতে ভারসাম্যপূর্ণ করার দিকে মনোযোগ দেবে। পরিকল্পনা কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, অর্থনীতির ধীর প্রবৃদ্ধি ও বাজার অস্থিতিশীলতার কারণে সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক দমন নীতির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

গত বছরে শুরু হওয়া সরকারি কঠোর দমন নীতির ফলে অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই তাদের মূলধনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হারিয়েছে। এ ক্ষতির ফলে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি এ দমন নীতির ফলে দেড় বছরের মধ্যে চলতি বছরের আগস্টে প্রথমবারের মতো সংকুচিত হতে শুরু করেছে চীনা পরিষেবা খাত।

গত বছরের নভেম্বরে একটি পরিকল্পিত আইপিও প্রত্যাহারের পূর্বে আর্থিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপকে তাদের আকার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ব্যবসাকে পুনর্নির্মাণ করতে বাধ্য হয়েছে আলিবাবার সহযোগী এ প্রতিষ্ঠান।

এ গ্রীষ্মের শুরুতে রাইড-হাইলিং কোম্পানি দিদির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানমূলক তদন্ত শুরু করেছে বেইজিং। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য তার আইপিওর কাছাকাছি আসতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দেখা যায়। জুলাইয়ে সরকারের বিস্তৃত নীতিমালা উন্মোচনের ঘটনা চীনের ১২ হাজার কোটি ডলারের মুনাফা টিউটরিং খাত বন্ধ করে দিয়েছে।

মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমএসসিআইয়ের চীনা সূচকে দেখা যায়, চীনের বৃহৎ ও মধ্যম আকৃতির মূলধনি কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে ১৩ শতাংশের বেশি কমে গেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক সূচকে বৃহৎ কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৬ শতাংশের বেশি।

সম্প্রতি বেইজিং ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সরকারের এ দমন নীতি আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সোমবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, একটি সাধারণ সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে একচেটিয়া বিরোধী আইন ও অন্যান্য ব্যবস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ছিল।

এমন পরিস্থিতিতেও সামনের বছরগুলোতে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির মাত্রা অনেকটা সহনশীল হারে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *