চিনির বাজারে আশা জাগাচ্ছে ভারত

চিনি উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত। নতুন বিপণন মৌসুমে দেশটি চিনি উৎপাদনে বড় ধরনের সাফল্য পাবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রফতানিতেও প্রবৃদ্ধির দেখা মিলবে। ফলে বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম লক্ষণীয় মাত্রায় কমতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছর বিশ্ববাজারে চিনির তীব্র সংকট দেখা দেয়। বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক ব্রাজিলে খরার প্রভাবে চিনি শিল্প প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়ে। সরবরাহ নিয়ে যখন উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছিল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর, ঠিক তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ভারত। দেশটির ঊর্ধ্বমুখী সরবরাহ বৈশ্বিক ঘাটতিতে ভারসাম্য নিয়ে আসে। নতুন মৌসুমেও বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হবে দেশটি।

তথ্য বলছে, চলতি বছরের অক্টোবরে ভারতের চিনির ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। মৌসুমের প্রথম দুই মাসেই দেশটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন চিনি উৎপাদন করে, যা গত মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। বাড়ানো হয়েছে আখ মাড়াইয়ের পরিমাণও। চলতি মৌসুমে ভারতে চিনি উৎপাদনে বড় প্রবৃদ্ধি আসলে বিশ্ববাজারে চিনির দাম অনেকটাই কমে আসবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

ইন্ডিয়ান সুগার মিল অ্যাসোসিয়েশন (ইসমা) এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন বিপণন মৌসুমের এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ টন চিনি রফতানির চুক্তি করেছেন মিলমালিকরা।

এদিকে চলতি মৌসুমে ৬০ লাখ টন চিনি রফতানি করতে পারে ভারত। নতুন করে হানা দেয়া নভেল করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের হুমকি সত্ত্বেও চিনি রফতানি নিয়ে ভারত আশাবাদী। ভারতীয় চিনির সবচেয়ে বড় বাজার বেশ কয়েকটি আফ্রিকার দেশ। তবে সুখবর হলো ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাংশে প্রবল। ভারতের চিনির গ্রাহক দেশগুলো উত্তরাংশে।

ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএমএ) মহাপরিচালক অভিনাশ ভার্মা জানান, করোনার আগের দুই ঢেউয়েও দেশের রফতানিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। প্রায় বছর দুয়েক ধরে চলা করোনা মহামারী সত্ত্বেও আগের দুই মৌসুমে চিনি রফতানি বেশ চাঙ্গা ছিল। এ মৌসুমে ৬০ লাখ টন চিনি রফতানির আশাবাদ ব্যক্ত করেন অভিনাশ ভার্মা।

চিনি রফতানিকারকদের শীর্ষ এ সংস্থার প্রধান আরো জানান, আফ্রিকায় ভারতীয় চিনির সবচেয়ে বড় গ্রাহক হচ্ছে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া। মহাদেশটির দক্ষিণাংশের প্রায় অর্ধেক দেশেই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট হানা দিলেও আমাদের বেশির ভাগ বাজার উত্তরাংশে।

অভিনাশ ভার্মা বলেন, সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে আমরা শ্রমস্বল্পতার মুখোমুখি হই এবং রফতানির জন্য পর্যাপ্ত কনটেইনার পাই না। নতুন ভ্যারিয়েন্টের হানা সত্ত্বেও চলতি মৌসুমে চিনি রফতানি বেশ চাঙ্গা থাকবে বলেই দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

YouTube
Pinterest
LinkedIn
Share
Instagram
WhatsApp
FbMessenger
Tiktok