গম উৎপাদনের ১০ লাখ টন বাড়াল রাশিয়া

চলতি বছরের জন্য গম উৎপাদনের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে রুশ কৃষি মন্ত্রণালয়। দেশটির সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর শেষে রাশিয়ায় কৃষিপণ্যটির উৎপাদন আগের প্রাক্কলনের তুলনায় ১০ লাখ টন বাড়তে পারে। মূলত বিদ্যমান খরা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় বছরের শেষ ভাগে এসে গম উৎপাদন পূর্বাভাস সংশোধন করল দেশটি। খবর এগ্রিমানি ও ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।

রুশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে অনুযায়ী, ২০১৮ সাল শেষে দেশটিতে সব মিলিয়ে সাত কোটি টন গম উৎপাদন হতে পারে, যা আগের প্রাক্কলনের তুলনায় ১০ লাখ টন বেশি। দেশটির আগের সরকারি পূর্বাভাসে চলতি বছর মোট ৬ কোটি ৯০ লাখ টন গম উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছিল।

গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতি বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গম রফতানি হয়। রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ।

চলতি বছর রাশিয়াসহ কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় খরা পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। তাপমাত্রা ছিল তুলনামূলক বেশি। মূলত বৈরী আবহাওয়ার জের ধরে চলতি বছর দেশটিতে গম উৎপাদন কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে গম উৎপাদনের প্রাক্কলন সংশোধন করা হলেও চলতি বছর দেশটিতে শস্য উৎপাদনের প্রাক্কলন ১১ কোটি টনে অপরিবর্তিত রেখেছে রুশ কৃষি মন্ত্রণালয়।

এদিকে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রাশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদন হয়েছে। এ সময় দেশটিতে কৃষিপণ্যটির সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়ায় ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৯২ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালে দেশটিতে ৭ কোটি ২৫ লাখ ২৯ হাজার টন গম উৎপাদন হয়েছিল।

প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে চলতি বছর শেষে রাশিয়ায় সব মিলিয়ে সাত কোটি টন গম উৎপাদন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। অর্থাৎ, প্রাক্কলন সংশোধনের পরও ২০১৮ সালে রাশিয়ায় গম উৎপাদন কমতে পারে ৪৯ লাখ ৯২ হাজার টন। বছর শেষে দেশটি থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৫০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.