এলডিসি বাণিজ্যমন্ত্রীদের ভার্চুয়াল সম্মেলন; গ্রাজুয়েশনের পর ১২ বছর বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্ট

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি বলেছেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশন ও গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সহজ উত্তরণের জন্য এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় ট্রেড প্রেফারেন্স এর জন্য ১২ বছর সময় বর্ধিতকরণ’র (এক্সটেনশন) যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা সকল পক্ষকে সমর্থন করতে হবে। বাংলাদেশ শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, ট্রিপস ওয়েভার কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন অর্জন করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউটিও “হংকং মিনিস্টেরিয়াল ডিক্লারেশন” অনুযায়ী শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা এবং “নাইরোবি মিনিস্টেরিয়াল ডিক্লারেশন” অনুযায়ী এলডিসির জন্য প্রিফারেন্সিয়াল রুলস অব অরিজিন উন্নত দেশসমূহকে প্রদান করতে হবে। এলডিসিভুক্ত দেশসমূহের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও কাঠামোগত উন্নয়নে আঙ্কটাডকে কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। কোভিড-১৯ এর ফলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্জিত অগ্রযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করে যাচ্ছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গঠনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১) রাতে জেনেভার ইউনাইটেড নেশানস অফিস এর আঙ্কটাড (টঘঈঞঅউ) সচিবালয় এর মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের বাণিজ্যমন্ত্রীগণের ভার্চুয়ালি সন্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তৃতা প্রদানের সময় এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশসমূহের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কোভিড-১৯ এর অভিঘাত, ডিজিটাল ডিভাইড, জলবায়ুর বৈরী প্রভাব মোকাবিলার জন্য চলমান ইন্টারন্যাশনাল সাপোর্ট মেজার্স (আইএসএম) সমূহসহ যুগোপযোগী আন্তর্জাতিক সহায়তা দরকার। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে টেকনোলজি ট্রান্সফার এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে কাঠামোগত সহায়তা দিতে হবে। আগামীতে অনুষ্ঠেয় আঙ্কটাড -১৫, এমসি-১২, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশন ওএলডিসি-৫ সন্মেলন ও কার্যক্রম সমূহে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এলডিসি ও গ্রাজুয়েটিং এলডিসির স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়সমূহ কার্যকর ভাবে উপস্থাপনের জন্য আঙ্কটাডকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, আঙ্কটাড জাতিসংঘের আন্তরাষ্ট্রিক একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশসমূহকে নীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে থাকে। আগামী ৩ থেকে ৭ অক্টোবর আঙ্কটাড এর ১৫তম অধিবেশন ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। কোভিড-১৯ পরবর্তী এ অধিবেশন স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঙ্কটাড এর অধিবেশনে কোভিড প্রেক্ষাপটে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের ট্রেড, ফিন্যান্স এবং টেকনোলজি সহযোগিতাসহ আগামী দশ বছরের জন্য অ্যাকশন প্ল্যান (২০২২-৩১) আলোচিত হবে। বর্ণিত প্রেক্ষাপটে উক্ত অধিবেশনের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে ৪৬টি স্বল্পোন্নত দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীগণের এ সন্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সন্মেলনের হোস্ট মালাওয়ি এর বাণিজ্যমন্ত্রী এবং আঙ্কটাডের সেক্রেটারি জেনারেল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এলডিসি বাণিজ্য মন্ত্রীগণের সন্মেলনে বাংলাদেশের সকল প্রস্তাবসহ একটি “মিনিস্ট্রেয়াল ডিক্লারেশন “ ঘোষিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *