৬ লাখ টন ইলিশ উৎপাদনের আশা

0
2
ইলিশ
ইলিশ

প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এবার নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পেরেছে ইলিশ। বিশেষ করে বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র থেকে অধিক ইলিশ ডিম ছাড়তে নদীতে এসেছিল।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদীকেন্দ্রের ১৪ সদস্য বিশিষ্ট গবেষণা দল দেশের ৯টি পয়েন্টে গবেষণামূলক জরিপ চালিয়ে জানিয়েছে, এবার ৪৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে এবার ইলিশের পোনা বা জাটকা উৎপন্ন হবে ৪০ হাজার কোটি বা তার কিছু বেশি। যা গতবারের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি। আগামী জাটকা মৌসুমে এসব পোনা সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ থেকে ৬ লাখ মেট্রিকটন ইলিশ উৎপাদন হতে পারে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাসুদ হোসেন খান জানান, চাঁদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৪টি প্রধান প্রজনন কেন্দ্রে ২২ দিন ইলিশসহ সব মাছ ধরা বন্ধ ছিল। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণার বিজ্ঞানী দল মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে চূড়ান্ত জরিপ করে ফলাফল দিয়েছে। তাতে দেখা যায় এ বছর ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ডিম ছাড়ার ইলিশের পরিমাণ ৪৬.৪৭ শতাংশ যা বিগত বছরের তুলনায় আড়াইগুণ বেশি। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এ হার ছিল ৪৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ডিম ছাড়ার হার ছিল ৩৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বিশেষ করে এ বছর প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ অধিক বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া এবং পানির প্রবাহ সব মিলে পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক। যার কারণে অধিক পরিমাণ ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে উঠে আসতে পেরেছে এবং নিরাপদে ডিম ছেড়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান মৎস্য গবেষক ডা. মাসুদ হোসেন খাঁন জানান, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে এ অভিজানের ফলে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৯১ কেজি ডিম উৎপাদন হয়। যার ফলে ৩৯ হাজার ২৬৮ কেজি জাটকা যুক্ত হয়, সর্বোপরি জেলেরা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৭ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করে। এর পূর্বের বছর ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৯৫১ মেট্রিকটন ইলিশ উৎপাদন হয়।

ওয়ার্ল্ড ফিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশই উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ২৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যদিও এক যুগ ধরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছিল।

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক শেখ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদনের যে পরিসংখ্যান পেয়েছি সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে খসড়া হিসেব অনুযায়ী ইলিশের উৎপাদনটা মোটামুটি ঠিক আছে। গত অর্থবছরে ইলিশের মোট উৎপাদন ৪ লাখ ৯৬ হাজার টন।

তিনি বলেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর বেড়েই চলছে। আশা করছি চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হবে।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও নদী কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিছুর রহমান জানান, ইলিশের ডিম ছাড়ার হার পর্যবেক্ষণসহ পানির গুণাগুণ ও দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট দল নিয়ে গবেষণা জাহাজসহ চাঁদপুর থেকে যাত্রা শুরু হয়। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের রামগতি, হাতিয়া, মনপুরা, ভোলা, দৌলতখান, ইলিশা, মেহেন্দিগঞ্জ ও শরীয়তপুর এ ৯টি পয়েন্টে গবেষণামূলক জরিপ করে সেখানে পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক পাওয়া যায়।

এছাড়া এ প্রজনন মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল। যার কারণে ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সফলভাবে ডিম ছাড়তে পেরেছে, এবার ডিম ছাড়ার এ হার ছিলো ৪৬.৪৭ শতাংশ । এসব ডিম থেকে জাটকা তৈরি হবে যা সংরক্ষণ করতে পারলে এ বছরে ৫ লাখ মে. টন এর বেশি ইলিশ উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে।

সরকার আগামী জাটকা মৌসুমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশে ইলিশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও ইলিশ রফতানি করা সম্ভব হবে বলে জানান এ ইলিশ গবেষক।

উত্তর দিন