হিলিতে কমেছে পেঁয়াজের দাম

0
3
পেঁয়াজের দাম
পেঁয়াজের দাম

ভারতের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বন্যার কারণে গত মাসে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমে গিয়েছিল। এখন আবহাওয়া পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এ কারণে বেড়েছে পণ্যটির আমদানি। সরবরাহ বাড়ার জের ধরে হিলিতে পেঁয়াজের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দুদিনের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে (ট্রাক সেল) প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩-৪ টাকা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, সাধারণত এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ৫০-৬০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়। দেশটির উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বন্যার কারণে সরবরাহ কমলে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে পেঁয়াজ আমদানি দৈনিক ২০-২৫ ট্রাকে নেমে আসে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি ও কোরবানি ঈদের আগে চাহিদা বৃদ্ধির জের ধরে এ পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ৬ সেপ্টেম্বর হিলি স্থলবন্দরে কোরবানি ঈদের ছুটি শেষ হয়। শুরু হয় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। ছুটির পর ৬ সেপ্টেম্বর এ স্থলবন্দর দিয়ে নয়টি ট্রাকে ১৮৬ টন, ৭ সেপ্টেম্বর ১৫টি ট্রাকে ৩১০ টন, ৯ সেপ্টেম্বর ২৩টি ট্রাকে ৪৬৯ টন, ১০ সেপ্টেম্বর ২৯টি ট্রাকে ৫৯৯ টন, ১১ সেপ্টেম্বর ৩৩টি ট্রাকে ৬৮২ টন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি হয়েছে। এভাবে ঈদ শেষে স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালুর পর গত পাঁচদিনে ১০৯টি ট্রাকে মোট ২২ হাজার ৪৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গত আগস্টে ৭৪১টি ট্রাকে ১৫ হাজার ৬৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। আর জুলাইয়ে ১ হাজার ৯৭টি ট্রাকে মোট ২২ হাজার ৭৫৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ইন্দোর, নাসিক, রাজস্থান ও পাটনা— এ চার জায়গার পেঁয়াজ আমদানি হয়। গতকাল স্থানীয় পেঁয়াজ আমদানিকারকদের গুদাম ঘুরে দেখা যায়, ভারতের পাটনা ও ইন্দোর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি পর্যায়ে (ট্রাক সেল) প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২৫-২৬ টাকায়। দুদিন আগেও মানভেদে পণ্যটির দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৮-৩০ টাকা। অর্থাৎ দুদিনের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে মানভেদে ৩-৪ টাকা। আর স্থানীয় বাজারে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে পণ্যটি প্রতি কেজি ৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। গত মাসের শেষ নাগাদ দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ মানভেদে পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হয়েছিল কেজিপ্রতি ৪৫-৫০ টাকায়। সেই হিসাবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে অন্তত ৫ টাকা।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী হারুন উর রশীদ ও রবিউল ইসলাম জানান, কোরবানি ঈদের সময় দেশের সব স্থলবন্দরে ছুটি ছিল। ফলে বন্দরভেদে তিন-আটদিন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। স্থলবন্দরে ছুটি থাকায় এ সময় ভারতের মোকামগুলোও বন্ধ রাখা হয়। ছুটি শেষে স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় মোকামগুলোয় পেঁয়াজ সরবরাহ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পণ্যটির আমদানিও। এ কারণে স্থানীয় বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। দুদিনের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা কমে গেছে। হিলির পাশাপাশি দেশের সবগুলো স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে বলেও জানান তারা। এদিকে চলতি বর্ষা মৌসুমে দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। এ কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ ও ব্যবহার কমে গিয়েছিল। বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গার ক্রেতারা পেঁয়াজ কেনার জন্য হিলিতে আসতে পারেননি। ফলে পেঁয়াজের বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দেয়। এ কারণে পেঁয়াজের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এখন বন্যার প্রকোপ কমে আসায় দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে। এ কারণে পণ্যটির দাম বাড়বে বলে আশা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পণ্যটির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। গত মাসের শুরুতে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। গতকাল পণ্যটির মণপ্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, এবার কোরবানির ঈদের সময়ও পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম ছিল। বন্যার প্রকোপ কমে যাওয়ায় একদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। একই সঙ্গে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে আমদানি করা কিছু পেঁয়াজ বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা মজুদ করার সাহস পাননি। অন্যদিকে কোরবানি ঈদ সামনে রেখে যেসব ব্যবসায়ী দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ মজুদ করেছিলেন, তারাও লোকসানের আশঙ্কা থেকে পণ্যটি বাজারে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এসবের জের ধরে বাজারে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যায়। এ কারণে আমদানি করা ও দেশে উৎপাদিত— দুই ধরনের পেঁয়াজের দামই কমে যায়।

উত্তর দিন