সর্বনিম্নে জ্বালানি তেল উত্তোলন

0
38
অপরিশোধিত জ্বালানি
অপরিশোধিত জ্বালানি

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমিয়ে জ্বালানি পণ্যটির কাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্মিলিত উত্তোলন হ্রাসে চুক্তি করেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। চুক্তির শর্ত মেনে গত নভেম্বরে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে দৈনিক অন্তত তিন লাখ ব্যারেল কম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে ওপেকভুক্ত দেশগুলো। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওপেকের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে দৈনিক অন্তত ১২ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাতে হবে। এ শর্ত মেনে নভেম্বরে ওপেকভুক্ত দেশগুলো সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় নয় লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যা গত মে মাসের পর সর্বনিম্ন। মূলত এ সময় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানিতে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে থাকা সৌদি আরবে পণ্যটির উত্তোলন ও দেশটি থেকে রফতানি ওপেকের নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম হয়েছে। একই সঙ্গে কাতার, কুয়েত, ভেনিজুয়েলাসহ ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশ চুক্তির শর্ত মেনে পণ্যটি উত্তোলন করেছে। তবে ওপেকভুক্ত হয়েও একুয়েডর, গ্যাবন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এ সময় চুক্তির শর্ত মেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমাতে ব্যর্থ হয়েছে।

চলতি বছরের নভেম্বরে সৌদি আরব ওপেকের নির্ধারিত সীমার তুলনায় দৈনিক অন্তত ৩০ হাজার ব্যারেল কম জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া ও লিবিয়া এতদিন এ চুক্তির আওতার বাইরে ছিল। সে সময় চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থতার জন্য এ দুটি দেশকে দায়ী করেছিলেন বিশ্লেষকরা। ওপেকের সর্বশেষ বৈঠকে দেশ দুটি চুক্তির আওতায় এসেছে। তবে নভেম্বরে উভয় দেশ চুক্তির শর্ত মেনে চলেছে। এ সময় নাইজেরিয়ায় দৈনিক অন্তত ৪০ হাজার ব্যারেল কম জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়েছে। অন্যদিকে লিবিয়ায় পণ্যটির উত্তোলন কমেছে দৈনিক অন্তত ৩০ হাজার ব্যারেল।

৩০ নভেম্বর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদ্যমান চুক্তিটির মেয়াদ ২০১৮ সালের শেষ সময় পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে ঘোষণা এসেছে। এর মধ্য দিয়ে সরবরাহ কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির কাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধিতে এক বছরের বেশি সময় পাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। এ বিষয়ে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল-ফালাহ বলেন, ওপেকের চুক্তির শর্ত মেনে আমরা (সৌদি আরব) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমিয়েছি।

জোটভুক্ত অধিকাংশ দেশই চুক্তির শর্ত মেনে চলছে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তোলন ও সরবরাহ কমিয়ে জ্বালানি পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। আমাদের হাতে প্রায় এক বছর সময় রয়েছে। এর মধ্যেই পণ্যটির মূল্য কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়াতে হবে। আগামী বছরের প্রথমার্ধ (জানুয়ারি-জুন) শেষে বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হবে।

যারা অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করতে চান তাদের জন্য এই ভিডিও

উত্তর দিন