যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের প্রধান ক্রেতা এশিয়া

0
6
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল

বৈশ্বিক জ্বালানি তেল খাতে বড় শক্তি যুক্তরাষ্ট্র। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারীদের বৈশ্বিক তালিকায় দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আর জ্বালানি পণ্যটির রফতানিকারকদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশ্বে ১৪তম। মার্কিন জ্বালানি তেল রফতানি খাতের পরিধি প্রতি বছরই বাড়ছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে এশিয়ার দেশগুলোর নাম। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানি হওয়া এক-তৃতীয়াংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গন্তব্য ছিল চীন, ভারতসহ এ মহাদেশের দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর (ইউএসএসবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৭ লাখ ব্যারেলের সামান্য বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোয় সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ জ্বালানি তেল রফতানি করেছে ওয়াশিংটন, যা দেশটি থেকে রফতানি হওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ।

এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশগুলো। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকো, কানাডাসহ উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয় মোট রফতানির ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলোয় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছর দেশটির মোট রফতানির ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইউরোপের দেশগুলোয় পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানি হওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৭ দশমিক ৬ শতাংশের গন্তব্য ছিল লাতিন ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলো। সে হিসেবে এ অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের চতুর্থ বৃহত্তম ক্রেতা। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় বাকি (মোট রফতানির ১ শতাংশের কম) অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক ইএসএআই এনার্জি ইনকরপোরেশনের এক নোটে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তোলন হওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৩৭ শতাংশ রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। রফতানি হওয়া জ্বালানি পণ্যটির বেশির ভাগের গন্তব্য ছিল এশিয়ার দেশগুলো।

বাড়তি জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের জের ধরে এ অঞ্চলের দেশগুলোয় জ্বালানি পণ্যের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

এ বিষয়টি উপলব্ধি করে এশিয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রফতানি বাড়াতে মনোযোগ দিয়েছে ওয়াশিংটন। এক্ষেত্রে চীন ও ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজারকে লক্ষ্য করে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি আরো গতিশীল করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারকদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে চীন। ভারতের বাজারে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। চীন, ভারতসহ এশিয়ার ক্রমবিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বাড়িয়ে আয়ের একটি স্থিতিশীল উেসর সন্ধান পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন উত্তোলন খাত আরো চাঙ্গা হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ সময় দেশটিতে জ্বালানি তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী সক্রিয় কূপের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়ে হয়েছে ৯৭৫। গত সপ্তাহে দেশটিতে নতুন ২৬টি কূপ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন শুরু হয়েছে।

আর প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনকারী সক্রিয় কূপের সংখ্যা আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে তিনটি। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। মার্কিন উত্তোলন খাতের চাঙ্গাভাবের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে। দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয় ৫৯ ডলার ৫ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ ডলার ১০ সেন্ট কম। গত বছরের ২২ ডিসেম্বরের পর এটাই জ্বালানি পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমেছে আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয় ৬২ ডলার ৭৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ ডলার ২ সেন্ট কম। ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বরের পর এটাই প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বনিম্ন দাম।

যারা অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করতে চান তাদের জন্য এই ভিডিও

উত্তর দিন