দ্বিতীয় সাবমেরিন প্রকল্পে ৬৮ কোটি টাকার অনিয়ম

0
6
সাবমেরিন কেবল কোম্পানি
সাবমেরিন কেবল কোম্পানি

দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন প্রকল্পে ৬৮ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর্থিক লেনদেন-সংশ্লিষ্ট ১৫টি অভিযোগের বিপরীতে এই অনিয়ম হয়েছে। আর গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের আর্থিক অনিয়মসহ প্রশাসনিক একাধিক অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে সরকারি এক বিশেষ নিরীক্ষায়। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্‌ল (এসইএ-এমই-ডব্লিউই ৫) নিয়ে বৈদেশিক সহায়তা প্রকল্প নিরীক্ষা পরিদপ্তর (এফএপিএডি) এ নিরীক্ষা করেছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৪৯৮ কোটি টাকা যেভাবে খরচ করা হয়েছে, তা ডিপিপিতে (বিস্তারিত প্রকল্প পরিকল্পনা) নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী করা হয়নি। প্রতিবেদনটিতে মোট ১৮টি বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত। এর মধ্যে দুটি বিষয়ে ৬০ কোটি টাকা আর ১২টি বিষয়ে সব মিলিয়ে ৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের নিয়োগসহ প্রশাসনিক অনিয়ম বিষয়ে বাকি তিনটি আপত্তি তোলা হয়েছে।

সরকারের মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌ল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) ৬৬০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতে ৩৫২ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিয়েছে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে ১৬৬ কোটি টাকা আর বাকি ১৪২ কোটি টাকা বিএসসিসিএলের নিজস্ব উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রয়োজনীয় ব্যান্ডউইটথ সাবমেরিন কেব্‌ল থেকে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্‌লের কারিগরি নাম এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ (সাউথইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-৫)। এসইএ-এমই-ডব্লিউই ৫ হলো তিনটি মহাদেশের ১৬টি দেশের ১৯টি টেলিযোগাযোগ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিছানো একটি অপটিক্যাল ফাইবার কেবল্‌ বা তার। এ বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে ১৫টি দেশ কেব্‌লটির মাধ্যমে ব্যান্ডউইটথ ব্যবহার করে এলেও গত রোববার থেকে এই কেব্‌ল থেকে ব্যান্ডউইটথ ব্যবহার করছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্‌ল প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে  বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত এক বছরে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চলতি বছরের মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রকল্পের ওপর নিরীক্ষা চালায় এফএপিএডি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আর্থিক অনিয়মের মধ্যে রয়েছে সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে ও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া এবং কাজের মান যাচাই না করেই ঠিকাদারকে টাকা দিয়ে দেওয়া, বেশি দামে জমি কেনা, প্রকল্প শুরুর আগেই গাড়ি কেনা, প্রকল্প পরিচালকের পরিবর্তে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাধ্যমে প্রকল্পের সব খরচের অনুমোদন ইত্যাদি।

এ বিষয়ে বিএসসিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব শ্যামসুন্দর সিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না নিয়ে নিরীক্ষকেরা ব্যক্তিগত স্বার্থে অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তর দিন