দুর্ধর্ষ ডাকাতদের ভাল করাই ওসি ফিরোজ কবিরের কাজ

স্টাফ রিপোর্টার

পুলিশের তালিকায় তিনি একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত। হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, মাদকসহ তার নামে মামলা হয়েছে অন্তত ১৮টি। গ্রেফতার হয়ে জেলেও গেছেন কয়েকবার। সবশেষ ট্রিপল মার্ডার মামলায় গ্রেফতার হন জুলহাস সেখ (৫৩)। সে সময় মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবিরের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জামিনে মুক্ত হলে ভালো হয়ে যাবেন।

ওসিকে দেওয়া সেই কথা রেখেছেন শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া দুর্গম চরের বাসিন্দা জুলহাস। জুলহাস সেখ বর্তমানে পুরোদস্তুর একজন মুসল্লি। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। এলাকার সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) যমুনা নদীর দুর্গম চর আলোকদিয়ায় গিয়ে কথা হয় জুলহাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে তার দুটি বড় নৌকা ছিল। নদীতে নৌকা চালিয়েই চলতো সংসার। এলাকার লোকজন পাবনার সুজানগর থেকে একবার গরু ডাকাতি করে। এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত না থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। টানা দুই বছর জেল খাটেন। জামিনে বেরিয়ে এসে দেখেন নৌকা দুটি নদীতে ডুবে গেছে আর বাবা মারা গেছেন। মনে খুব কষ্ট পান। তখন চিন্তা করেন ভালো থেকে লাভ কী? তাই তিনিও অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

এরপর দীর্ঘ অপরাধী জীবন। বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পালিয়ে বেড়াতে হতো। এখন বেশিরভাগ মামলাই শেষ। বর্তমানে মার্ডার, মাদক, মারামারি ও গরুচুরিসহ মোট পাঁচটি মামলা চলমান আছে বলে জানান জুলহাস।

জুলহাস সেখ বলেন, ট্রিপল মার্ডার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ কবিরের কাছে কথা দিয়েছিলাম জামিনে বেরিয়ে আসার পর ভালো হয়ে যাবো। এখন আল্লাহ আমারে খুবই শান্তিতে রাখছেন। মানুষ নানা কাজে আমারে ডাকে। বাকি জীবনটা নামাজ কালাম পড়েই কাটাতে চাই।

আলোকদিয়া চরের বাসিন্দা আমিনুর, সোহরাবসহ কয়েকজন জানান, জুলহাস সেখ জেল থেকে জামিন পাওয়ার পর চরমোনাই পীরের দরবারে যান। সেখান থেকে ফেরার পর নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন। আচার-আচরণেও এসেছে পরিবর্তন। তার পরিবর্তন দেখে এলাকার মানুষ খুশি হয়েছেন।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির বলেন, গত বছরের এপ্রিল মাসে ঘরে আগুন লাগিয়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছেলের বউ ও মেয়ের জামাইসহ তিনজনকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে মামলা হয় জুলহাসের বিরুদ্ধে। গত ২৩ এপ্রিল ছদ্মবেশ ধারণ করে আলোকদিয়া চর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি বলেন, গ্রেফতারের পর দেখি লোকটা অনেক বয়স্ক মানুষ। চুল-দাড়ি সবই পাকা। আমি তখন একান্তে তার সঙ্গে কথা বলি। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনুরোধ করি। তখন জুলহাস কথা দিয়েছিলেন জামিনে বেরিয়ে এসে ভালো হয়ে যাবেন। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন। সেই কথা তিনি রেখেছেন। বর্তমানে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে দূরে আছেন। তার জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। মানুষ মন থেকে চাইলেই যে ভালো হতে পারে জুলহাস সেখ তার উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.