জ্বালানি তেলের রফতানি কমাচ্ছে সৌদি

0
6
জ্বালানি তেল
জ্বালানি তেল

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটি আগামী আগস্ট মাসে পণ্যটির রফতানি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত গরমের মৌসুমে অভ্যন্তরীণ চাহিদার চাপ সামলানো এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের আওতায় উত্তোলন হ্রাসের প্রতিশ্রুতি পূরণে সৌদি প্রশাসন এ উদ্যোগ নিচ্ছে। খবর রয়টার্স।

সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক সূত্রের বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর পরও পণ্যটির দরপতন ঠেকাতে ওপেকের আওতায় উত্তোলন হ্রাসের প্রতিশ্রুতি পূরণে সৌদি প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ। সংস্থাটির বেঁধে দেয়া উত্তোলনসীমার মধ্যে পণ্যটির উত্তোলন সীমিত রাখবে দেশটি। আগামী আগস্টে সৌদি আরব থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির সরবরাহ দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেলের বেশি কমানো হবে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে পণ্যটি রফতানির এ পরিমাণ চলতি বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৭ সালে সৌদি আরব সর্বনিম্ন দৈনিক ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছিল। আগামী মাসে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য সম্মিলিতভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল কমানো হবে। এসব দেশের জন্য পণ্যটির বরাদ্দ ছিল দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল। এদিকে ইউরোপের দেশগুলোতেও সরবরাহ কমবে দৈনিক ৭০ হাজার ব্যারেল। এ মহাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল দৈনিক ৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পণ্যটির রফতানি দৈনিক আট লাখ ব্যারেলের নিচে নামিয়ে আনছে সৌদি প্রশাসন।

সৌদি আরব ওপেককে জানিয়েছে, গত জুনে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলনের পরিমাণ ছিল দৈনিক ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল; যা বেঁধে দেয়া উত্তোলনসীমার সামান্য বেশি। গরমের মৌসুমে বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের চাপ সামলাচ্ছে দেশটি। অধিক পরিমাণে বিদ্যুত্ উৎপাদনের জন্য অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও বেশি রয়েছে। এ কারণেই দেশটি ওপেকের বেঁধে দেয়া উত্তোলনসীমার চেয়ে বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে।

সৌদি সূত্র জানায়, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য এনে পণ্যটির দামের নিম্নগতিতে লাগাম টানতে চায় সৌদি আরব। এজন্য ওপেকের আওতায় পণ্যটির উত্তোলনসীমা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশটি। ওপেকের বাকি সদস্য দেশগুলোও তাদের জন্য নির্ধারিত উত্তোলনসীমা মেনে চলবে বলেও আশা করে সৌদি প্রশাসন। ওপেকভুক্ত দেশগুলো যাতে পণ্যটির উত্তোলন সীমিত রাখে, সেদিকে কড়া নজর রাখবে সৌদি আরব। এজন্য ওপেকের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করবে বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে সদস্য দেশগুলোর জন্য উত্তোলনসীমা নির্ধারণ করে দেয় ওপেক। গত জানুয়ারিতে ওপেকভুক্ত দেশগুলো পণ্যটির উত্তোলন দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল কমাতে রাজি হয়। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়াসহ ওপেকের সদস্য নয় এমন ১০টি দেশ পণ্যটির উত্তোলন অর্ধেক পরিমাণ কমাতে সম্মত হয়। এর জের ধরে পণ্যটির দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়।

তবে ওপেকের সদস্য হয়েও নির্ধারিত উত্তোলনসীমা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নাইজেরিয়া ও লিবিয়া। ২৪ জুলাই ওপেকভুক্ত ও ওপেকবহির্ভূত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর যৌথ কমিটি বৈঠকে বসছে। বৈঠকে সদস্য পণ্যটির উত্তোলন হ্রাস-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। বিশ্ববাজারে পণ্যটির চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রেখে দরপতন রোধের কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি কাতারের তেলমন্ত্রী ইশাম আলমারজুক জানান, আসন্ন বৈঠকে লিবিয়া ও নাইজেরিয়াকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাড়তি উৎপাদন বন্ধের আহ্বান জানানো হবে। দেশ দুটি এ আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিলে বিশ্ববাজারে পণ্যটির চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য আনা আরো সহজ হবে। আর ইতিবাচক সাড়া না দিলে আগামী ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত বিষয়টি ঝুলে থাকবে।

ওপেকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুনেও বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন নির্ধারিত সীমার চেয়ে দৈনিক তিন লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে।

উত্তর দিন